বহির্নোঙরে জাহাজডুবি, এক নাবিকের মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সিমেন্ট ক্লিংকার নিয়ে ডুবে যাওয়া এমভি টিটু-১৪’র নিখোঁজ এক নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার (২১ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নে বঙ্গোপসাগরের উপকূল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নৌ-পুলিশের কুমিরা ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, পৌনে ১২টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পাই- ভাটিয়ারী এলাকায় একটি মরদেহ ভাসছে। এরপর আমরা মরদেহটি উদ্ধার করি। মরদেহের ছবি পাঠিয়ে ও পকেটে পাওয়া মোবাইলের বিষয়ে আবুল খায়ের গ্রুপের লোকজন এবং নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা মরদেহটিকে গত ১৯ মার্চ ডুবে যাওয়া এমভি টিটু-১৪’র নাবিক বলে শনাক্ত করেন।

একরাম উল্লাহ আরও জানান, নিহতের নাম হানিফ শেখ (২৫)। তিনি জাহাজটিতে লস্কর হিসেবে কাজ করতেন। মরদেহ কিছুটা বিকৃত হয়ে গেছে। মূলত ছবি ও দাঁড়ি দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়।

নিহত হানিফ শেখ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার হান্নান শেখের ছেলে। জাহাজের মাস্টার মেরিনার ফরিদ শেখের বাড়িও আলফাডাঙ্গায়। তার মাধ্যমে হানিফ শেখ জাহাজটিতে কাজ নেন বলে জানান নৌ-পুলিশের কুমিরা ফাঁড়ির ইনচার্জ।

এদিকে নিখোঁজ অন্য তিন নাবিকের সন্ধানে এখনো উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে কোস্ট গার্ড। সোমবার বিকেল ৫টায় কোস্ট গার্ড পূর্বজোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশফাক বিন ইদ্রিস  বলেন, নিখোঁজ অন্য তিনজনের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।

এর আগে শনিবার (১৯ মার্চ) ভোর রাত ৪টার দিকে বহির্নোঙরের একটি মাদার ভ্যাসেল থেকে ক্লিংকার বোঝাই করে এমভি টিটু-১৪ নামের লাইটারেজ জাহাজটি নারায়নগঞ্জের দিকে যাওয়ার সময় অন্য একটি বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। এসময় লাইটারেজের ১২ শ্রমিক সাগরে লাফ দেন। খবর পেয়ে কোস্টগার্ড ৭ নাবিককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। অন্য এক নাবিক আরেকটি লাইটারেজের সহায়তায় উদ্ধার হন।

দুর্ঘটনা কবলিত লাইটারেজটি আবুল খায়ের গ্রুপের বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া ৭ নাবিককে ওইদিনই তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে কোস্ট গার্ড।