কেন্দ্র থেকে বায়োডাটা আহবান
আলোচনায় নগর,উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটি

চট্টগ্রাম মহানগর,উত্তর জেলা ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটির জন্য বায়োডাটা আহবান করেছে কেন্দ্রীয় যুবলীগ। শনিবার(২৬ মার্চ) কেন্দ্রীয় যুবলীগের  দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ স্বাক্ষরিত এক চিঠি পদপ্রত্যাশীদের বায়োডাটা আহবান করা হয়েছে।

নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগরে কমিটি না হওয়ায় যুবলীগের তৃণমূলে হতাশা বিরাজ করছে। নেতৃত্বজট লেগে গেছে যুবলীগে। শত শত ছাত্র নেতা যুবলীগের কমিটিতে আসার জন্য মুখিয়ে আছে। কিন্তু দীর্ঘ ১৮ বছরেও পুর্নাঙ্গ  কমিটি গঠন হচ্ছে হবে বলে তা কখনও আলোর মুখ দেখছে না। এ নিয়ে কেন্দ্র থেকে বারবার উদ্যোগ নিলেও নানা কারণে তা বারবারই ভেস্তে গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতি, সাংগঠনিক দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনসহ নানা কারণে দীর্ঘ ৮ বছর কমিটি হয়নি। এটি শুধু আহ্বায়ক কমিটিতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তিন মাসের জন্য গঠিত চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি এখন ৯ বছর অতিক্রম করছে। নগরীর ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের মাত্র ৫টি কমিটি। সেই ৫টি ওয়ার্ডের কমিটি নিয়েও রয়েছে বির্তক।

২০১৩ সালের ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মহিউদ্দিন বাচ্চুকে আহ্বায়ক ও দেলোয়ার হোসেন খোকা, ফরিদ মাহমুদ, মাহবুবুল হক ও দিদারুল আলমকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। তারা পাঁচজনই প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। গেল ৯ বছরে যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব যেমন গড়ে ওঠেনি, তেমনি আহ্বায়কদের অন্তঃকোন্দলে ঝিমিয়ে পড়েছে সাংগঠনিক কার্যক্রমও।

একারনে কেন্দ্র থেকে বায়োডাটা চাওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন যুবলীগের নেতাকর্মীরা। নগর যুবলীগের সদ্য সাবেক আহবায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু এবং ফরিদ মাহমুদ আওয়ামীলীগ করতে ইচ্ছুক বলে জানা গেছে।

সভাপতি প্রার্থী হিসেবে নগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা, মাহবুবুল হক সুমন,দিদারুল আলম দিদার,কাউন্সিলর
হাসান মুরাদ বিপ্লব,এম আর আজিম,দেবাশীষ পাল দেবুর নাম আলোচনা আছে। এছাড়া সাধারণ সম্পাদকের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে  নুরুল আনোয়ার, ১৩ নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও এমইএস কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা ওয়াসিম উদ্দিন, সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক  রাজীব হাসান রাজন, এমইএস কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা আরশাদ আলম বাচ্চু,  সুরুজিত বডুয়া লাবু, যুবলীগ নেতা মান্নান ফেরদৌসের নাম শোনা যাচ্ছে।

২০০৪ সালে নগর যুবলীগের শেষ সম্মেলন হয়েছিল । যুবলীগের বর্তমান গঠনতন্ত্র (প্রস্তাবিত) অনুযায়ী, ৫৫ বছরের অধিক বয়সী কেউ যুবলীগের সদস্য হতে পারবেন না। তাই বর্তমান কমিটির অনেকেই আর যুবলীগে আগ্রহী নন। তাই যুবলীগে যে নতুন নেতৃত্ব আসছে সেটা অনেকটাই নিশ্চিত।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসে সংগঠনটির সভাপতি পদে আসেন শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসেন মাঈনুল হোসেন খান নিখিল।