ফটিকছড়ি থেকে নিখোঁজ স্বর্ণ ব্যবসায়ীর লাশ মিলেছে সীতাকুণ্ডে

বাংলাদেশ মেইল ::

ফটিকছড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর নাজিরহাট বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও জনতা জুয়েলার্সের মালিক উত্তম কুমার ধরের ছিন্নভিন্ন লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সীতাকুণ্ড থেকে৷

শুক্রবার (১১ মার্চ) ছিন্নভিন্ন লাশটির হাতের রিং ও পায়ের জুতা দেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে উত্তম কুমার ধরকে শনাক্ত করেন তার ভাই উজ্জ্বল কুমার ধর।

নিহত উত্তম কুমার ধরের বাড়ি ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর বণিক পাড়ায়। পরিবারের দাবি, কেউ অপহরণ করে এ স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে।

জানা গেছে, ৮ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম শহরে যাওয়ার জন্য নিজ দোকান থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি উত্তম কুমার ধর। এরপর থেকে তাঁর খোঁজ না পেয়ে পরপদিন বুধবার ফটিকছড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর ভাই উজ্জল কুমার ধর।

নিহত উত্তম কুমার ধরের ভাই উজ্জল কুমার ধর বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেছি। আমার ভাই সীতাকুণ্ড যাওয়ার কথা ছিল না। কেউ অপহরণ করে ওখানে নিয়ে গেছে। পরে পরিকল্পিত ভাবে ট্রেনের নিচে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘ফটিকছড়ির নাজিরহাট বাজারের জনতা জুয়েলার্সের মালিক আমার ভাই। মঙ্গলবার সকালে দোকান থেকে বের হয়েছিল সে। শহরে একজন উকিলের সাথে দেখা করার কথা ছিল তাঁর। এ ছাড়া একজন ডাক্তারের সাথে দেখা করে চিকিৎসাও নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাতে আর ফিরেনি। আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু কোথাও না পেয়ে ফটিকছড়ি থানায় নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পেরে পুলিশ আমাদের জানিয়েছিল বুধবার সীতাকুণ্ডের মাধবকুন্ডে মোবাইলের সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আমরা ওখানেও খোঁজ নিতে যাই। বিভিন্ন মন্দির আত্মীয় স্বজন বাদ রাখিনি। বৃহস্পতিবার রাতে জানতে পারলাম, একটি ট্রেন এক্সিডেন্টে একজন মারা গেছে। ওনার খোঁজ নিয়ে দেখি লাশ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। হাতের আংটি ও পায়ে জুতা দেখে সনাক্ত করি তিনি আমার ভাই।’

উজ্জল কুমার ধর আরও বলেন, ‘আমার ভাই কোন মানসিক রোগী নয়। কেউ তাকে সীতাকুণ্ড নিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

সীতাকুণ্ডে রেলওয়ে জিআরপি পুলিশের এসআই খুরশেদুল আলম বলেন, ‘সীতাকুণ্ডের সদর ডেবার পাড় এলাকায় রেললাইনে কাটা পড়া একব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছি আমরা বৃহস্পতিবার রাতে। রাত ৮টার দিকে ট্রেনে কাটা পড়েছিল লোকটি। লাশটি রাতেই মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। শুরুতে অজ্ঞাত হিসেবে থাকলেও লাশটি ফটিকছড়ির এক জুয়েলারি ব্যবসায়ির বলে সনাক্ত করায় পরিবারকে হস্তান্তর করেছি।’

এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা নিখোঁজ ডায়েরি নিয়েছি। প্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পারি ওই জুয়েলারি ব্যবসায়ী সীতাকুণ্ডে আছে। তবে এখন লাশ পাওয়া যায় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবারকেও মামলা দেওয়ার জন্য বলবো।’