বিতর্কিত ৫৪(২) ধারা বাতিলের দাবি দুদক সার্ভিস এসোসিয়েশনের

বাংলাদেশ মেইল ::

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চাকরি বিধিমালার বিতর্কিত ৫৪(২) ধারা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ চেয়ে আবারও দাবি জানিয়েছে দুদক সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (ডিইউএসএ)। আজ মঙ্গলবার (১ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সুষ্ঠু অনুসন্ধান-তদন্তের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দুদক চাকরি বিধিমালার বিতর্কিত ৫৪(২) বিধির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পেন্ডিং আবেদন কমিশন কর্তৃক প্রত্যাহারের বিষয়ে দুদকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষ থেকে কমিশন বরাবর কমিশনের সচিবের মাধ্যমে আবেদন করা হয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি এবং কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনোরূপ আশ্বস্তও করা হয়নি। বরং সম্প্রতি এমন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে (যেমন- বিভাগীয় মামলা, শোকজ ইত্যাদি) যা প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কর্ম পরিবেশকে নষ্ট করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ৫৪(২) বিধি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা সবসময় আতংকের মধ্যে রয়েছে। কোনোরূপ নোটিশ ছাড়া আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে শুধু তিন মাসের বেতন দিয়ে রাজস্ব খাতভুক্ত সরকারি কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হলে ওই কর্মচারী দ্বারা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। কমিশনের কর্মচারীরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বিধায় তাদের একজন সহকর্মীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করার পরও কোনো ধরনের কঠোর অবস্থানে যায়নি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু এবং ভয়হীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়ায় এবং কমিশনের পক্ষ থেকে অসাংবিধানিক ৫৪(২) বিধি নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা না পাওয়ায় দুদকের সর্বস্তরের কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ এবং চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাধীনভাবে কাজ করার কোনো কর্মপরিবেশ বিরাজ করছে না।

ভীতিকর পরিস্থিতির অবসানে দুদক সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কমিশনের সচিবকে পূর্ব নির্ধারিত কমিশন সভায় আবেদিত বিষয়গুলো আলোচনা করে কমিশনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা এবং সিদ্ধান্ত দুদকের কর্মচারীদের লিখিতভাবে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে বলে ডিইউএসএ’র নেতারা জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮ এর ৫৪(২) নং বিধিতে বলা হয়েছে- ‘এই বিধিমালায় ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ না দর্শাইয়া কোনো কর্মচারীকে নব্বই দিনের নোটিশ প্রদান করিয়া অথবা নব্বই দিনের বেতন পরিশোধ করিয়া তাহাকে চাকরি হইতে অপসারণ করিতে পারবে।’