ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটে গড়িমসি স্পিকারের

বাংলাদেশ মেইল ::

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা ভোটের ওপর ভোটভুটিতে গড়িমসি স্পিকার আসাদ কায়সারের। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশটির পার্লামেন্টের অধিবেশন চলছিল।

পাকিস্তানের জিও টিভি অনলাইনের খবরে বলা হয়, শনিবার তিন দফা বিরতির পর রাতে অধিবেশনের চূড়ান্ত পর্ব শুরু হয়। এ অধিবেশন স্থানীয় সময় রাত ১২টা পর্যন্ত চলতে পারে।

এর আগে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর এ ভোটাভুটির সময় রাত ৮টায় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু বিরোধী দলগুলোর নেতাদের চাপ থাকলেও ওই সময়ে স্পিকার আসাদ কায়সার ভোট শুরুতে গড়িমসি করেন।

সূত্র জানিয়েছে, স্পিকার বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে তার ৩০ বছরের সম্পর্ক। এ কারণে তিনি এ ভোটের অনুমতি দিতে পারেন না।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে এ অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ভাগ্য নির্ধারণ হওয়ার কথা রয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের।

স্থানীয় সময় শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের (এনএ) অধিবেশন শুরু হয়। পরে স্পিকার আসাদ কায়সার পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত স্থগিত করেন। কিন্তু এ বিরতি বিকেল পর্যন্ত গড়ায়।

অধিবেশন চলাকালে পার্লামেন্টে ছিলেন না পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

সূত্র জানায়, অনেকটা ইচ্ছাকৃতভাবে অধিবেশন বিলম্বিত করা হয়েছে। অধিবেশনকালে পিটিআইয়ের নেতারা তাদের বক্তব্য দীর্ঘায়িত করেছেন।

সিনিয়র অ্যাঙ্করপার্সন হামিদ মীর বলেন যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি, যিনি অধিবেশন সাময়িক স্থগিত হওয়ার সময় বক্তব্য রাখছিলেন, তিনি বিরতির পর তার ভাষণ চালিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, মন্ত্রীকে কমপক্ষে তিন ঘণ্টা কথা বলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে আজ (শনিবার) ভোটগ্রহণ যাতে না হতে পারে, সেজন্য অধিবেশন দীর্ঘায়িত করার সরকারের পরিকল্পনার পাল্টা কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে বিরোধীদলীয় নেতা শাহবাজ শরিফের চেম্বারে পরামর্শক বৈঠক করেছে বিরোধী দল।

গত বৃহস্পতিবার ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব বাতিল ও পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে পার্লামেন্ট পুনর্বহালেরও নির্দেশ দেন বিচারপতিদের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ।

দেশটির সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুনভাবে মোড় নেয়। সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী, শনিবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের অধিবেশন আহ্বান করতে বাধ্য জাতীয় পরিষদের স্পিকার।

৩ এপ্রিলের আলোচ্যসূচির সঙ্গে মিল রেখে সকালে এ অধিবেশন শুরু করতে হবে। ৩৪২ আসনের পার্লামেন্টের মধ্যে ১৭২ জনের সমর্থনের প্রয়োজন ইমরান খানের বিরোধীদের।

এদিকে জনগণের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ভাষণে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব বাতিল ও পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায়ে ‘স্তব্ধ’ হলেও মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে ইমরান খান বলেছেন, আমি একদিন আগে জারি করা সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নিচ্ছি।

ভাষণে ইমরান খান জানান, সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায়ে ‘স্তব্ধ’ হলেও মেনে নিয়েছেন। তবে, আমদানি করা কোনো সরকার মেনে নেবেন না। তিনি জনগণের কাছে যাবেন। পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পুনর্বহালে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানান। কিন্তু এ রায়ে তিনি ‘স্তব্ধ’ হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের উচিত ছিল ‘বিদেশি ষড়যন্ত্রের’ বিষয়ে অন্তত একটি তদন্তের নির্দেশ দেয়া।

এ সময় পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রধান শাহবাজ শরিফের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, শেরওয়ানি পরে শপথ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকা শাহবাজ বিদেশি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত।

রোববার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা বিরোধী জোটের তরফে পেশ হওয়া অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ভোটাভুটির কথা থাকলেও ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি তা খারিজ করে দেন। তিনি জানান, বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় আনা এই অনাস্থা প্রস্তাব সংবিধানবিরোধী এবং তা দেশের কল্যাণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই পাকিস্তানের সংবিধানের ৫ নম্বর ধারা মেনে এ নিয়ে কোনো ভোট করাতে পারবেন না তিনি।

এর পরেই ইমরান খানের সুপারিশে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সেদিন রাতেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেন বিরোধীরা।

সোমবার থেকে শুনানি শুরু হয়। পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়ালের নেতৃত্বে এতে অংশ নেন বিচারপতি মুনীব আখতার, বিচারপতি আইজাজুল আহসান, বিচারপতি মাজহার আলম ও বিচারপতি জামাল খান মন্দোখেল।