কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে সিএমপি কমিশনারের প্রতি সুজনের অনুরোধ

বাংলাদেশ মেইল ::

কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং নগরীর আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সিএমপি কমিশনারের প্রতি  অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

আজ সোমবার (৪ এপ্রিল ) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি সিএমপি কমিশনারের প্রতি এ অনুরোধ রাখেন।

এ সময় তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সার্বিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সিএমপি কমিশনারের নির্দেশনায় একযোগে কাজ করছে পুলিশের সকল ইউনিট। করোনাকালীন সময়েও পুলিশের মানবিক কর্মকান্ডসমূহ দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। মানুষকে ঘরে রাখা, অসহায় কর্মক্ষমদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া, অসুস্থ রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ, চিকিৎসাসেবা প্রদানসহ নানাবিধ কর্মকান্ডে পুলিশের সকল ইউনিট যে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে তা জনগন আজীবন শ্রদ্ধা ও সন্মানের সাথে স্মরণ করবে। এছাড়া করোনাকালীন সময়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের যে সকল সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের প্রতি সহানুভূতি জ্ঞাপন করেন তিনি।

তবে নগরীতে হঠাৎ করে ছিঁচকে চোরের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে দোকান-পাট, গোডাউন-গ্যারেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হানা দিচ্ছে এসব ছিঁচকে চোরের একাকি বা সংঘবদ্ধ গ্রুপগুলো। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে যা উদ্বেগজনক। তারা ছিনতাই, ধর্ষণ, লুটপাট, মাদক ব্যবসা, খুন, অপহরণ ও যৌন হয়রানিসহ ভয়ংকর সব অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যখন তখন ছুরি, চাপাতি, রামদা, হকিস্টিক ছাড়াও অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পাড়া মহল্লায় আতংক সৃষ্টি করছে। এদের উৎপাত থেকে নগরবাসীকে বাঁচাতে ফুট পেট্রোল চালু, থানার মোবাইল পেট্রোল টিম বৃদ্ধি করাসহ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির জন্য সিএমপি কমিশনারের প্রতি আহবান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন চট্টগ্রাম দেশের বৃহত্তম নগরী। সরকারি হিসাব মতে এ নগরীর জনসংখ্যা ষাট লক্ষ বলা হলেও বাস্তবে সে জনসংখ্যা প্রায় কোটির কাছাকাছি। এতো বিরাট একটি শহরের জনসংখ্যার অনুপাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ফোর্সের অভাবে রয়েছে। তারপরও সীমিত লোকবল দিয়ে নগরীর আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সেজন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

এছাড়া চট্টগ্রাম নগরীর জনসংখ্যা অনুপাতে পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স প্রদানের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নিকট সবিনয় অনুরোধ জানান সুজন।

সুজন বলেন,  রমজান শুরু হওয়ার সাথে সাথে নগরীতে যানজটের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে যানজটের তীব্রতা বেড়ে যায়। নগর ট্রাফিক বিভাগের সদস্যগণ রোজাকালীন সময়েও প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যানজটকে বাগে আনতে পারছেন না। নগরীতে চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ড, রমজানে ব্যাংক, অফিস সময়সূচী কমিয়ে আনার ফলে ব্যাংকিং ও অন্যান্য কর্মকান্ড দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ এবং অফিস টাইম শেষে নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার চাপের ফলেই সড়কে যানজটের তীব্রতা বাড়তে থাকে। যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে নগরীর বিভিন্ন মোড়সমূহ যেমন-সিটি গেইট, এ.কে খান, অলংকার, অক্সিজেন, নতুন ব্রীজ, কাপ্তাই রাস্তার মাথাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অযাজিত গাড়ী পার্কিং রোধ করা গেলে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। দেখা যাচ্ছে যে নগরীর বিভিন্ন প্রবেশ মুখগুলো বিভিন্ন বাস কোম্পানীর অলিখিত টার্মিনালে পরিণত হয়েছে। এসব বাসগুলো দিনরাত সড়কের ওপর থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করে। ফলে সড়ক দিয়ে চলাচলকারী অন্য যানবাহনগুলোকেও অসুবিধায় পড়তে হয় এবং যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া রমজানে যানজট এড়াতে বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে বলেও মত প্রকাশ করেন সুজন।