জলাবদ্ধতা, যানজট, মশার অত্যাচারে বিপর্যস্ত নগরবাসী
চট্টগ্রামের উন্নয়নে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা নেই- ব্যারিস্টার মনোয়ার

বাংলাদেশ মেইল ::

জলাবদ্ধতা, যানজট, মশার অত্যাচার, সংস্কারবিহীন ভাঙ্গা রাস্তা, পরিবেশ ও শব্দ দূষণ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে গুড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের আহবায়ক  ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন।

রবিবার (১০ এপ্রিল)  দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ এসব অভিযোগ তুলে ধরেন চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নেতারা।

লিখিত বক্তব্যে ব্যারিস্টার মনোয়ার বলেন, আমাদের সকল প্রয়াস ও উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের আগামীদিনের বংশধরদের জন্য একটি আধুনিক স্বাস্থ্যময়য়, সুন্দর, সুশৃংখল চট্টগ্রাম গড়ে তোলা । চট্টগ্রামের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব কি তা বলার অপেক্ষা রকে না | কিন্তু জলাবদ্ধতা, যানজট, মশার অত্যাচার, সংস্কারবিহীন ভাঙ্গা অলিগলি, রাস্তাগুলো পরিবেশ ও শব্দ দূষণ ইত্যাদি প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে গুড়িয়ে দিচ্ছে আর মানুষকে করছে হতাশাগ্রস্থ। জনপ্রতিনিধিদের এই ব্যাপারগুলি নিয়ে কতটুকু মাথাব্যথা আছে তা জনগণ বুঝতে পারছেন না না।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চট্টগ্রাম মহানগরকে সার্বিকভাবে উন্নত করতে জনগণের কোনো অংশগ্রহণ নেই, আর নেই জনগণকে পরিবেশ ও স্বাস্থ সচেতন করার কোনো কর্মকান্ড | এটা বর্তমান সরকার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নত ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই বিষয়ে  প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন নাগরিক ফোরামের নেতারা।

নাগরিক ফোরামের সংবাদ সম্মেলনে  সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন  বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে নিয়ে আমি এবং আমার সহযোদ্ধারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, যেমন ১৯৮৭-১৯৮৮ সালে হরতাল, গণ-অনশন, সেমিনার, মানববন্ধন ইত্যাদি করে এই সমস্যার সমাধানের স্থায়ী দাবিতে চট্টগ্রামবাসীর সমর্থন নিয়ে আমরা সক্রিয় থেকেছি। ১৯৮৯ সাল থেকে পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্প এবং প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগরীর খালগুলি উপর থেকে অবৈধ দখলমুক্ত করা, জমি হুকুম দখল করে প্রশস্তকরণ, শেখ মুজিব রোড বক্স কালভার্ট নির্মাণ ইত্যাদি হয়েছিল ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত। পরবর্তীতে এগুলো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার করা হয়নি।

অপরদিকে নির্বিচারে পাহাড় কাটা মাটি এসে খালগুলিকে ভরাট করেছে। এসবকিছুর কারণে সমস্যা পরবর্তীতে ফিরে আসে আরও প্রকট হয়ে।

২০১৫ সাল থেকে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম গঠন করে আমরা আবারো জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে সোচ্চার হই এবং ফলশ্রুতিতে ১৯১৭ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ঐ সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ ছিল দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা। আমরা ইতিমধ্যে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, মেয়র সিডিএ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রতিনিধি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত ৩৪ নং সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালক, ওয়াসা , পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জলাবদ্ধতা বিষয়ে বিশেষ কনভেনশন আয়োজন করেছিলাম ২০১৯ সালে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সার্বিক সমন্বয় , গণ সচেতনতা সৃষ্টি এবং সময়মতো কাজ শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। আমরা বিগত কয়েকদিন যাবৎ মেগা প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম পরিদর্শন করেছি। বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারের পিছনে যে খালটি তা চাক্তাই খালের অংশ, কিন্তু সেটিতে কেন এখনো হাত দেওয়া হয়নি তা বোধগম্য নয় ! সেখানে অনেকাংশে পলিথিন ব্যাগ এবং আবর্জনায ভরাট হয়ে আছে এবং এর উপর সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব সার্কেল-২ এর অফিস এখনো বহাল আছে। এতে খালের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ হাইকোর্টের একটি সিদ্ধান্তের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক এবং বেআইনি।এটি ভাঙা না হলে আমরা হাইকোর্টের নির্দেশনার জন্য উদ্যোগ নেবো |

ব্যারিস্টার মনোয়ার আরো বলেন, অপরদিকে শেখ মুজিব রোড কালভার্ট সংস্কারের কোন সংস্কারের জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অথচ এটি শত শত কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছিল। আমরা দেখেছি সিডিএ এভিনিউ (বিশ্বরোড) এর সম্প্রসারণ কাজ চলছে, কিন্তু এর বাহির অতিরিক্ত ধারণকৃত পানি গুলো দ্রুত গতিতে নিস্কশিত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।