দীর্ঘ কুড়ি বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি হাজী সফর আলী সড়কে

বাংলাদেশ মেইল ::

দীর্ঘ কুড়ি বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ৩নং মির্জাপুর ইউনিয়নের হাজী সফর আলী সড়কে। খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতায় একাকার সড়কটি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী যাতায়াত করে এই সড়ক দিয়ে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। যান চলাচল ও পায়ে হাঁটার অনোপযোগী হয়ে পড়ে সড়কটি। সড়কটিতে সৃষ্ট গর্ত গুলোতে জমে থাকা নোংরা পানি ও কাদামাটি পথচারীদের গায়ে ছিটকে পড়ে। এতে নষ্ট হয় নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লির পরিহিত জামাকাপড়। ফলে জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তির কোন শেষ নেই। বিশেষত মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মির্জাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গাউছিয়া বাকেরিয়া মহিলা মাদ্রাসা, মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু কিন্ডারগার্ডেন ও নূরানী মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা চলাচল করে এই সড়কে। এইসব শিক্ষার্থীরা সকালে স্কুলের পোশাক পড়ে ঘর থেকে বের হলেও বিকালে কাদামাখা পোশাক নিয়ে ফিরতে হয় ঘরে। এছাড়া ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে সকল পথচারী ও শিক্ষার্থীরা। কোন প্রসূতি রোগী নিয়ে গেলে তার দ্বিগুণ কষ্ট বাড়ে বলে জানায় স্থানীয়রা। যেসব গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে গাড়িগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। কয়েকদিন পর পর গাড়িগুলো মেরামতের প্রয়োজন হয়। এছাড়া প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের নির্ভরশীলতা রয়েছে এই সড়কে। জানা গেছে, ভারী যানবাহন চলাচল ও দীর্ঘ সময় সংস্কারের অভাবে রাস্তার এই বেহালদশা। এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে সাধারণ ও অসুস্থ রোগীদের সমস্যার কোন শেষ নেই। বড় বড় গর্তের মধ্যে যানবাহনের চাকা পড়ে অনেক সময় আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছেন যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ তাদের এই সমস্যা দীর্ঘদিন যাবত চলতে থাকলেও দেখার কেউ নেই। সড়কটি মেরামতের কাজ করার আহ্বান জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে স্থানী ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন খাঁন সুমন বলেন, সড়কের বিষয়ে আমরা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি। এটি একবার কাজ শুরু হয়ে নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদার কাজ শেষ না করে চলে যায়। যার কারণে সড়কটির অবস্থা বেশি খারাপ হয়ে যায়। আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমরা কিছু ইট দিয়ে রাস্তাটা সমান করার চেষ্টা চালাবো, যাতে জনগণের ভোগান্তি কিছুটা লাঘব হয় এবং তা অতি শীঘ্রই শুরু হবে। পাশাপাশি সড়কটি পুনরায় তালিকা করা হবে।

এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী জয়শ্রী দেয় বলেন, ইতিমধ্যে এক বার স্টিমিট করা হয়েছে এবং হালকা খুড়াখুড়িও করা হয়েছিল। তবে নির্মান সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদার। দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমরা এটা আবার পাঠাবো। আশা করি, জনপ্রতিনিধিরাসহ এগিয়ে আসলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।