এলইডি প্রকল্পে দূর্নীতি
প্রকৌশলী ঝুলনের যেমন তেমন ব্যাখা

বাংলাদেশ মেইল :::

শুরু থেকেই ভারত সরকারের এলওসির (লাইন অব ক্রেডিট) ফান্ডে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ২৬০ কোটি টাকার এলইডি বাতি স্থাপনের প্রকল্পে নজিরবিহীন অনিয়ম ধরা পড়ে । আলো ছড়ানোর স্বপ্ন দেখিয়ে দূর্নীতির অন্ধকারে ডুবানো হয়েছে প্রকল্পটি। ফলে সাড়ে তিন বছর পার হয়েছে কিন্তু  টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। প্রকল্পের শুরু থেকে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে প্রকল্প পরিচালক ও চসিকের বিদ্যুৎ উপ-বিভাগের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ঝুলন কুমার দাশের নানা জাল-জালিয়াতির প্রমাণ মিলছে।

ঝুলনের পছন্দের প্রতিষ্ঠানটি কালো তালিকাভুক্ত বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরে দরপত্রের নথি ‘গায়েব’ করে নতুন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নথি যুক্ত করার মতো মহাজালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে। এরমধ্যে অনিয়মের পক্ষে  সাফাই বক্তব্য দিয়ে পুরো সিটি করপোরেশনকেই বিতর্কের মধ্যে ফেলেছেন তিনি। গণমাধ্যমে পাঠানো বক্তব্যে ঝুলন কুমার দাশ দাবি করেছেন ‘ এইচটিএমএস লিমিটেড ‘ দরপত্রে অংশগ্রহন করে নি। এমনকি জাইকার এলইডি প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে সিটি করপোরেশনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন তিনি।

দুই বছর আগে ২৬ জন কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতি এবং দুই মাস আগে জাইকার অর্থায়নে এলইডি বাতির পুল স্থাপন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পায় চসিকের তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদন জমা দেয়া হলেও এখন ঝুলন কুমার দাস দাবি করেছেন মানহীন ক্যাবেল ব্যবহারের বিষয়টি সত্য নয়।

জানা গেছে,  জাইকা প্রকল্পের  ক্যাবেল সংগ্রহ করে চুয়েটে  নিজ উদ্দ্যেগে ল্যাব টেস্ট করিয়েছিলেন ঝুলন কুমার দাস। তদন্ত কমিটি চুয়েটে ল্যাব টেস্ট করিয়ে নিম্নমানের ক্যাবেল বলে নিশ্চিত হবার পর একই প্রতিষ্ঠানে নতুন করে ল্যাবটেস্ট  করানোকে অনৈতিক বলে মন্তব্য করেছেন কমিটির সদস্যরা। সুত্রমতে, চুয়েটে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে ব্যবহার করা ক্যাবেলের মান সম্পর্কে  নতুন রিপোর্ট সংগ্রহ করেন প্রকল্প পরিচালক ঝুলন কুমার দাশ। এই ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা রাখা হয় নি; বরং প্রশ্নবিদ্ধ করেছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাইকা এলইডি প্রকল্পে দূর্নীতির মূল হোতা হওয়া সত্ত্বেও ঝুলন কুমার দাশের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই অনেকটা বেপরোয়া হয়ে একের পর এক জালিয়াতি  করছেন বলে মন্তব্য করছেন সংস্থাটির প্রকৌশল বিভাগের অনেকেই। এছাড়া এলইডি প্রকল্পে তথ্যগোপন করায় শোকজ দেব্র পরে,  শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলেও কোনো বিভাগীয় মামলা করেনি সিটি করপোরেশন।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় ঋণ সহায়তা প্রকল্পের অধীনে এলইডি বাতি স্থাপন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১৯ সালের ৯ জুলাই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী ভারতের এক্সিম ব্যাংক তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শর্ট লিস্ট পাঠায়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে-এনার্জি ইফিসিয়েন্সি সার্ভিসেস লিমিটেড, সিগনিফাই ইনোভেশন্স ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং শাপর্জি পালনজি অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। একইভাবে বাংলাদেশের তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়।

প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- ট্রেড ম্যাজিস্টিক লিমিটেড, এইচটিএমএস লিমিটেড ও ফটো স্টার লিমিটেড। শর্ট লিস্টের প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্রে অংশ নেয়। বাছাই শেষে ভারতীয় একটি ও বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠান চুড়ান্ত করা হবে যারা যৌথভাবে কাজ করবে।

জানা গেছে, প্রকল্পটির টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটিতে ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল আলম, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, প্রকল্পটির পরিচালক ঝুলন কুমার দাশ, স্থানীয় সরকার বিভাগের (সিটি করপোরেশন শাখা-২) উপ-সচিব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম মঈনুল হক এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন। এ নিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত চারজন প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বাংলাদেশি উপ-ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এনার্জিপ্যাক নামের কোনো প্রতিষ্ঠান ছিলো না। সেখানে ছিলো টিএমএল, ফটো স্টার এবং এইচটিএমএস। একইভাবে এনার্জিপ্যাক নামের কোনো প্রতিষ্ঠান উপ-ঠিকাদার হিসেবে ছিলো না বলে  নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি স্থানীয় সরকার বিভাগের (সিটি করপোরেশন শাখা-২) উপ-সচিব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। তিনি আরও জানান, ‘ এইচটিএমএস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছিলো। এনার্জি প্যাক বলে কোন প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয় নি। আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি টেন্ডারে বেশ কয়েকটি পিপিআর রুল লঙ্ঘন করা হয়েছে। তাই আমরা রি-টেন্ডার করার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম।’

কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করে প্রকল্পটির পরিচালক চসিকের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ঝুলন কুমার বলেন, ‘প্রকল্পটির টেন্ডারে তিনটি ভারতীয় ঠিকাদারী কোম্পানি অংশগ্রহণ করে। সেগুলো হলো ইইএসএ, সিগনিফাই ইনোভেশন ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং এসপিসিপিএল। তাদের অনুমোদিত বাংলাদেশি উপ-ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হলো এনার্জি প্যাক লিমিটেড, প্রোটোস্টার এবং ট্রেডম্যাজিস্টিক লিমিটেড। চসিকের ২৬০ কোটি টাকার এলইডি বাতি প্রকল্পে আফতাব আহমেদ মালিকানাধীন এইচটিএসএম লিমিটেড নামের কোনো প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেনি।’

টেন্ডারে অংশগ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করে এইচটিএসএম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফতাব আহমেদ  বলেন, ‘আমি চসিকের নতুন প্রকল্পের টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেনি। আমাকে বলেছিলো, আমি রাজি হয়নি। ট্রেড ম্যাজিস্ট্রিক্স জাইকার এলইডি প্রকল্পে উপ ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেছে। তবে এনার্জিপ্যাক জাইকা প্রকল্পের কোন কাজে সম্পৃক্ত ছিলো না। ‘

এদিকে, গণমাধ্যম পাঠানো বিবৃতিতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এনার্জি প্যাক দরপত্রে অংশ নিযেছে দাবি করা হলেও দরপত্রে অংশ নেবার শর্ত হিসেবে কোন প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ করার শর্তপুরনের সক্ষমতা নেই এনার্জি প্যাক লিমিটেডের। সুত্রমতে, জাইকার এলইডি প্রকল্পে এনার্জি প্যাককে  উপ ঠিকাদার হিসেবে অভিজ্ঞতা সনদ প্রদান করেছেন  প্রকল্প পরিচালক ঝুলন কুমার দাস। এমন অভিজ্ঞতা সনদকে মহাজালিয়াতি বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা।

এভাবে টেন্ডারের নথি গায়েব করা সম্ভব কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে টেন্ডার প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলী বলেন, ‘প্রকল্পটি শুরু থেকে এখন অবধি একটি নথিও ঝুলন কুমার দাশ ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির কাছে নেই। এমনকি মেয়রের কাছেও নেই। আর টেন্ডার হয়েছে ম্যানুয়েল প্রক্রিয়ায় তাই ঝুলন চাইলেও কোনো প্রতিষ্ঠানের নথি গায়েব করা কোনো বিষয় না। কেননা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিজেই রাজি। কেননা এইচএমএস কালো তালিকাভুক্ত, প্রতিষ্ঠানটি থাকলে টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল হবে। তাই নতুন প্রতিষ্ঠানের নথি ঢুকিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া জায়েজ করার চেষ্টায় লিপ্ত প্রকল্প পরিচালক।’

এদিকে সামগ্রিক বিষয়গুলো তুলে ধরে ‘এইচটিএমএস লিমিটিডে’ এর বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ করে ভারতের ‘সিগনিফাই ইনোভেশন্স ইন্ডিয়া লিমিটেড’ এর মহাব্যবস্থাাপক মিলিন্দ ডেসপান্ডে গত ২৫ জুলাই চসিকে লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগ এইচটিএমএস লিমিটেডের নাম রয়েছে।

মেয়র রেজাউল করিম বলেন,  একনেকে অনুমোদিত ‘চারটি লটকে একটি লট’ করে টেন্ডার করা হয়েছে। তাই আমি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম রি-টেন্ডার করার জন্য। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তু মন্ত্রণালয় জবাব দিলো বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করে মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট দিতে। কেননা ইতোমধ্যে প্রকল্পের অনেক সময় পার হয়ে গেছে। এরমধ্যে শুনছি ভারতীয় তিন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের তিন উপ-ঠিকাদারের মধ্যে এইচটিএমএস নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কালো তালিকাভুক্ত। এসব নিয়ে গত সাধারণ সভায় প্রকল্প পরিচালককে শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি নিয়ে যে তার ‘বিশেষ’ সুবিধা নেওয়ার ও বিশেষ ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার ‘ইনটেনশান’ স্পষ্ট।

ঝুলনের বিষয়ে ব্যবস্থা না নেওয়া প্রসঙ্গে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘এইচটিএমএস লিমিটেডের নথি সরিয়ে অন্য কোন প্রতিষ্ঠানকে ঢুকানো হলে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এনার্জি প্যাক লিমিটেড এই প্রকল্পের দরপত্রে অংশ নেয় নি। ‘

টেন্ডার ওপেনিং কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ এইচটিএমএস লিমিটেড দরপত্রে অংশ গ্রহন করেছে। এনার্জি প্যাক নামের কোন প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয় নি। ‘

প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, এইচটিএমএস লিমিটেড এলইডি প্রকল্পের উপ ঠিকাদার হিসেবে দরপত্রে অংশ নিয়েছে। এটি সবাই জানে। নথি পরিবর্তন করা অসম্ভব বিষয়।

মুল্যায়ন কমিটির পাঁচজন সদস্য স্বীকার করেছেন এইচটিএমএস লিমিটেড দরপত্রে অংশ গ্রহন করেছে। শাপর্জি পালনজি লিমিটেডের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে। তারা যদি এখন অন্য প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে সেটিও বড় জালিয়াতি। একই ধরনের জালিয়াতি ধরা পড়েছে সিটি করপোরেশনের অন্য একটি টেন্ডারে।

সুত্রমতে, চসিকের একটি প্রকল্পের ইজিপি টেন্ডারে নজিরবিহীন অনিয়ম পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ৯ শতাংশ অধিক মুল্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেবার অভিযোগ উঠে। গোপনে পরিকল্পিতভাবে সিডিউলের রেট পরিবর্তন করে দরপত্রে অংশগ্রহনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর টেন্ডার নন ‘রেসপনসিভ’ করা হয়। প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিকের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ তদন্তে আসা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে বিষয়টি প্রমাণিত হলে ; টেন্ডার বাতিল করে দেয়া হয়।

ইজিপি পদ্ধতি নিয়ম লঙ্ঘন করে ৯% অধিকমুল্য কাজ দেবার কথা জানাজানি হলে ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির ‘ রি টেন্ডার’ আহ্বান করা হয়েছে। বাকলিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সড়ক সংস্কারের কাজ ( শালবন আবাসিক এলাকা সড়ক), মোস্তাফা বাগ আবাসিক এলাকা সড়ক, চাঁনমিয়া মুন্সি সড়ক ও আরসিসি ড্রেন, মৌসুমি আবাসিক এলাকা সড়ক ও আরসিসি ড্রেন, উজির আলী শাহ লেন, কেবি আমান আলী বাই লেইন সড়ক সংস্কারের দরপত্রে নজিরবিহীন অনিয়মের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চসিকের বেশ কিছু ঠিকাদার।

এদিকে, ভারতীয় এলওসি ফান্ডের এলইডি প্রকল্পে মুল্যায়ন শিট রেজুলেশন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেবার নিয়ম থাকলেও সেটি মানা হয় নি। বিদ্যুৎ উপ বিভাগের একটি প্রকৌশলী জানান, প্রকল্প পরিচালক ভারতের এক্সিম ব্যাংককে ম্যানেজ করে নিজেই নোয়া ইস্যু করতে চান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরোয়া তিনি করছেন না। ভারতের এক্সিম ব্যাংকের ঢাকাস্থ এক কর্মকর্তার সাথে ঝুলন কুমার দাশের কথোপকথনে এমন পরিকল্পনার কথা জানা যায়। সেই কর্মকর্তাকে ঝুলন কুমার দাশ অনুরোধ করে বলেন,  ‘ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে না। এটা ভারতের ফান্ড। এক্সিম ব্যাংকের অনুমতি পেলে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে আমিই নোয়া (noa) ইস্যু করবো। ‘

এই বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলে মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তারা এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চান নি।