ত্রিশ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় ঝড়
শীর্ষকর্তার মৃত্যুতে অনিশ্চিত শাপুরজি পালনজি ‘র ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশ মেইল ::

দূর্ঘটনায় ভারতের কনস্ট্রাকশান জায়েন্ট শাপুরজি পালনজি গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইরাস মিস্ত্রির মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ত্রিশ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসার ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। (৪ সেপ্টেম্বর)  রবিবার সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরন করেছেন ভারতীয় শীর্ষ স্থানীয় এই ব্যবসায়ী। সাইরাস মিস্ত্রি টাটা গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যানও ছিলেন।

ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার ইনডেক্স অনুসারে, ২০২২ সালে ভারতের শীর্ষস্থানীয় এই এসপিসি গ্রুপের সম্পদের পরিমাণ  প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। কনস্ট্রাকশান, শিপিং, বিদ্যুৎ, বস্ত্রখাতে বিনিয়োগে  দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শিল্প পরিবার শাপুরজি পালনজি। সাইরাস মিস্ত্রি টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হবার কারনে পারিবারিক ব্যবসাটি তার বড় ভাই শাপুর মিস্ত্রির হাতে অর্পণ করা হয়েছিল৷ সেই সময় শুরু পতনের। সাইরাস মিস্ত্রির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ১৫৭ বছর পুরোনো শাপুরজি পালোঞ্জি গ্রুপ এই বছর দ্বিতীয় বড় ক্ষতির সম্মুখীন হলো। গেল জুন মাসে গ্রুপটির কর্ণধার সাইরাস মিস্ত্রির পিতা ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যু হয়েছিল। গত ২৮ শে  জুন তার হয়। মৃত্যুর আগে, পালোনজি মিস্ত্রি তার ছেলেদের কাছে গ্রুপের মালিকানা দিয়েছিলেন। যদিও ২০১২ সালে তিনি অবসরে যান। তাকে ‘বোম্বে হাউসের ফ্যান্টম’ হিসাবে ডাকা হতো।

গেল রবিবার মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার কনিষ্ঠ বংশধর সাইরাস মিস্ত্রির মৃত্যু দ্বিগুণ ক্ষতি কারণ হয়েছে সাপুর্জি পালনজি গ্রুপের জন্য।

ভারতের শাপোর্জি পালনজি এন্ড কোম্পানি ( এসপিসিএল) ত্রিশ বিলিয়ন ডলার মুল্যের বৈশ্বিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,যেটি  ১৩০ বিলিয়ন ডলারের  টাটা গ্রুপের ১৮.৬ শতাংশেরও মালিক। প্রয়াত সিনিয়র পালোনজি মিস্ত্রি (সাইরাসের দাদা) দ্বারা লিটলহুড পালনজি এন্ড কোম্পানি নামে শুরু এসপিসিএল’র যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮৬৫ সালে৷

২০২০ সাল থেকে ঋনের যন্ত্রণায় জর্জরিত এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য বছরের ২য় ধাক্কা এটি। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে , সাইরাস মিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে এমন একটি সময়ে  যখন ঋনের  চাপে থাকা শাপুরজি পালোনজি গ্রুপ কোনভাবে ঠিকে থাকার স্বপ্ন দেখছিল৷ সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকা ঋণ কমিয়ে ‘এ’ রেটিং পুনরুদ্ধারও করেছিল। চলতি বছরের ৩১ শে মার্চ ঋন পরিশোধের মাধ্যমে ব্যাংক ঋন পুনঃতফসিল করতে সক্ষম হবার পর দূর্ঘটনায় সাইরাসের  মৃত্যু প্রতিষ্ঠানটি আবারও পেছনে ফেলে দেবে বলে মনে করছেন  বিশ্লেষকরা। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে  রেটিং এজেন্সিগুলি এককালীন পুনর্গঠন (OTR) পরিকল্পনা থেকে সফলভাবে বের করার পরে শাপুরজি পালোনজি গ্রুপের ফ্ল্যাগশিপকে আপগ্রেড করেছিল।নির্ধারিত সময়ের আগে  ঋণ পরিশোধ,  তহবিলের নগদায়ন , সম্পদের নগদীকরণ ঝক্কি পার করে  নতুন মেয়াদী ঋণ পেয়েছে গ্রুপটি। সাইরাস এবং তার বাবা দুইজনের মৃত্যু  এমন সময়ে এসেছে যখন রেটিং এজেন্সিগুলি হাজার কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের পরে শাপুরজি পালোনজি  গ্রুপের ফ্ল্যাগশিপকে ‘এ’ রেটিং দিয়ে আপগ্রেড করেছিল।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে ভারতের একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, “এসপিসিএল নির্ধারিত সময়ের আগে দায় মেটাতে নির্দয়ভাবে নিজেদের  সম্পদ বিক্রি করেছে,”।

পিতার মৃত্যু পর সাইরাস নতুন খাতে বিনিয়োগের দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন, যদিও তার ভাই শাপুর পুরো ব্যবসা দেখাশোনা করেছিলেন। বাংলাদেশ, নেপাল, সিঙ্গাপুরেও নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছিলো প্রতিষ্ঠানটি।

২০২০ সালে কোভিটের মধ্যেই গ্রুপটিকে একটি প্রকল্পের জন্য ঋণ পুনর্গঠনের জন্য আরবিআই এর উপেক্ষাকেও সহ্য করতে হয়েছে। ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর বাতিল করে দেয়া হয় ব্যাংলোরে একটি বৃহৎ এলইডি প্রকল্পের কার্যাদেশ। সেই সাথে বিহারের রাজগীড় স্টেডিয়ামের কাজ শেষ করতে না পারার কারণে রাজ্য সরকারের  ‘ নিষিদ্ধ ‘ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় উঠেছে এসপিসিএল’র নাম। আদালতের দারস্থ হয়ে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত সময় নিয়ে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রকল্প বুঝিয়ে দিতে পারেন নি শাপুরজি পালনজি গ্রুপ। শীর্ষ ব্যবসায়ীক মোড়ল টাটা সন্সে আটারো শতাংশ  প্রোমোটার শেয়ারের মালিকানার কারণে ব্লু-চিপ হিসাবে বিবেচিত শাপুরজি পালনজি গ্রুপের জন্য এটি একটি বড় পতন ছিল। যাইহোক, সেই বিপত্তিটি অস্থায়ী ছিল কারণ জায়েন্ট এ বিজনেস  গ্রুপটি নিজেদের অন্য ব্যবসাগুলিকে বিক্রি করে নগদ অর্থ  সংগ্রহ করে  নির্ধারিত সময়ের আগে ঋন পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছে ।