পটিয়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয়ে প্রতারণা

বাংলাদেশ মেইল ::

ডাঃ মিনি  বড়ুয়া, পটিয়ায় নিজের বাসায় ক্লিনিক খুলে প্রসূতিদের  চিকিৎসার নামে প্রতারণা করছেন। নিজেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারন রোগীদের সাথে প্রতারণা করছেন তিনি।

জানা যায়,  এমবিবিএস ডিগ্রিধারী এই চিকিৎসকের উচ্চতর শিক্ষার কোন ডিগ্রি না থাকলেও নিজের নামের সাথে যোগ করেছেন বিশেষজ্ঞ। পটিয়ার পোস্ট অফিস মোড়ে ‘চায়না ক্লিনিক ‘ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন, থাকেনও একই জায়গায়। সাইনবোর্ডে তিনি নিজেকে ডায়াবেটিস আল্ট্রাসনোগ্রাফির বিশেষজ্ঞ  হিসেবে দাবি করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা  বলছেন, ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ লিখতে হলে ওই চিকিৎসকের এ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি থাকতে হবে। একইভাবে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বিশেষজ্ঞ লিখতে হলে নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করতে হবে।

সুত্রমতে ,মিনি বড়ুয়া এমবিবিএস ডিগ্রিধারি হলেও কিন্তু  ডায়াবেটিস ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি বিষয়ে উচ্চতর কোন ডিগ্রি তার নেই । গাইনি ও প্রসূতিবিদ্যার উপরও পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ট্রেনিং (পিজিটি) বা অন্য কোন ডিগ্রি মিনি বড়ুয়ার নেই।

কিন্তু স্থানীয়দের কাছে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয়ে প্রসূতিদের অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পটিয়া পৌর সদরের পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় ‘চায়না ক্লিনিক’ নামের একটি দুইতলা বাসার সামনে বড় একটি সাইনবোর্ডে চিকিৎসক মিনি বড়ুয়ার পরিচয় লেখা রয়েছে ডায়াবেটিস, আল্ট্রাসনোগ্রাফি বিশেষজ্ঞ, প্রসূতি ও স্ত্রী-রোগ চিকিৎসক। প্রতিবেদকের হাতে আসা প্রেসক্রিপশন প্যাডেও বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন তিনি ।

অভিযোগ, তার স্বামী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের নেতা এই প্রভাব দেখিয়ে  সার্জন না হয়েও বেসরকারি পটিয়া সেন্ট্রাল হাসপাতালেও অস্ত্রোপচার করে যাচ্ছেন মিনি বড়ুয়া।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রসূতি রোগীকে মিনি বড়ুয়ার কাছে রেফার করার ঘটনাও ঘটেছে।

বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মিনি বড়ুয়া একটি গণমাধ্যমকে  বলেন, ‘উচ্চতর ডিগ্রী না থাকলেও এভাবে লেখা যায়। অন্যরাও এভাবে লেখেন। আর আমার তো এমবিবিএস, সিসিডি ডিগ্রি রয়েছে।’

এমবিবিএস, সিসিডি ডিগ্রি থাকলে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেওয়া যায় কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ  ইলিয়াস বলেন,  ‘ ডিগ্রি না থাকলে বিশেষজ্ঞ  হিসেবে পরিচয় দেয়া যায় না। এই বিষয়ে রোগীদেরও সচেতন হতে হবে। ‘