আরএফ বিল্ডার্স ' স্বপ্নফাঁদ'
কক্সবাজারে হাজী দেলোয়ারের স্বপ্ন ফাঁদে শত কোটি টাকা লোপাট

সাইফুল ইসলাম  :: 

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে কখনোও বিলাসবহুল হোটেল কিংবা রিসোর্স নির্মানের পরিকল্পনা করে আরএফ বিল্ডার্স নামের একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী দেলোয়ার হোসেন।কখনো বা বিলাসবহুল আবাসিক ভবন হোয়াইট সেন্ট, কখনও ওয়াল্ড বীচ বিচ রিসোর্টস, কখনও বা গোল্ডন সেন্ড নামের ভুয়া প্রকল্প তৈরি করে প্রবাসী ও দেশের বিভিন্ন জেলার গ্রাহকদের কাছ থেকে শত কোটি টাকা লুটপাটের চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে অনুসন্ধানে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওয়াল্ড বিচ রিসোর্ট ( আংশিক) ছাড়া কোন প্রকল্পই আলোর মুখ দেখেনি।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে তিনি দুদকের মামলায়ও জেল খাটেন; তবে তার বিভিন্ন ‘স্বপ্নফাঁদ’ প্রকল্পে বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত পাননি শত শত গ্রাহক।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১০ সালের আগস্ট মাসে কক্সবাজার পৌরসভা থেকে একটি আমমোক্তার দলিলের বিপরীতে ১৪ তলা ভবন নির্মানের ( মেরিন ড্রাইভের উত্তরে) অনুমতি নেয় আরএফ বিল্ডার্স। পুরো প্রকল্পটি গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা হলেও বাস্তবায়ন হয় নি গেলে বারো বছরেও৷ ২০১১ সালে সেপ্টেম্বর মাসে কক্সবাজার  বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড থেকে চৌদ্দ তলা ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগের ছাড়পত্রও নেয়া হয়েছিলো জালিয়াতির মাধ্যমে। ‘আরএফ প্রপার্টিজ’ নামের ভিন্ন একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে বিদ্যুৎ, পরিবেশ, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়া হয়।  এত কিছুর মূল উদ্দেশ্যই ছিল গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওয়েসিস হোটেল এ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড ৩৮ হাজার ৯৮০ জন শেয়ার হোল্ডার থেকে ৫৫৭ কোটি টাকা হাতানোর টার্গেট নিয়ে সাব কবলায় ফ্লাট বিক্রি শুরু করে ২০১২ সালে । চড়কদার বিঙ্গাপনের ফাঁদে ফেলে সারাদেশের গ্রাহকদের স্বপ্ন দেখিয়ে অন্তত শতকোটি টাকা লুটপাট করার পরে সেই প্রতিষ্ঠানটিই গায়েব করে ফেলা হয়েছে ।

এই প্রকল্পে টাকা বিনিয়োগ করে সর্বশান্ত হওয়া বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী জানিয়েছেন, ‘ ২০১৫ সালের মধ্যে মালিকানা বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের কাজ চালানো হয়।  টাকা দিলে ৩ বছর পর প্রত্যেক শেয়ার হোল্ডার ওই হোটেলে প্রতিবছর অন্তত তিন দিন ফ্রি অবস্থান করতে পারবে, নতুবা ঐ তিন দিনের ভাড়া পাবে নির্ধারিত গ্রাহক। এমন লোভনীয় অফার দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেবার পর জানা যায়  রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট ও ম্যানেজমেন্ট আইন-২০১০-এর আলোকে গঠিত কক্সবাজার উন্নয়ন  কর্তৃপক্ষ থেকে ‘ওয়েসিস হোটেল এ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড’ কোন নিবন্ধনই নেয় নি । কক্সবাজার জেলায় এ প্রতিষ্ঠানের কোন অফিস না থাকলেও রাজধানী ঢাকার পান্থপথের সুবাস্থ টাওয়ার ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সুরম্য অফিস তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। ‘

চমকপ্রদ বিঙ্গাপনের ফাঁদে ফেলে শত শত প্রবাসীর টাকা লুটপাটের মহাপরিকল্পনা নেবার পর জানা যায় হোটেলের জন্য নির্ধারিত স্থানের ভূমির মালিকানা বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন নেয়া হয়নি। প্রবাসীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার গ্রাহকদের কাছ থেকে  টাকা সংগ্রহ করা হলেও জমি নির্ধারিত না হওয়ায় কাউকে সাবকবলায় রেজিষ্ট্রি শেষ পর্যন্ত দিতে পারে নি। শেষমেশ জনসাধারণের কাছ থেকে বিভ্রান্তিমূলক উপায়ে অর্থ সংগ্রহকারী ‘ওয়েসিস হোটেল এ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড’ নামের প্রতিষ্ঠানে লেনদেন না করার জন্য সতর্কীকরণ জারি করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক।

‘ গোল্ডেন সান্ডস’ স্বপ্নের ফাঁদ 

২০১২ সালে গোল্ডেন সান্ডস নামের একটি প্রকল্পের ফাঁদ পাতেন আরএফ বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী দেলোয়ার হোসেন। দশ বছরে দৃশ্যমান হয়নি সেই প্রকল্পও।  হাতে আসা আরএফ বিল্ডার্সের হিসাবের নথি অনুযায়ী ‘গোল্ডেন স্যান্ডস’ নামের প্রকল্পে ফ্লাট বুকিং দিয়ে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করে আসছেন অন্তত ২৬ জন গ্রাহক।

নথি পর্যালোচনা করে দেয়া গেছে এই প্রকল্পে আবুল খায়ের নামের একজন গ্রাহক ২০১১ সালের ১১ অক্টোবর ( আইডি 229 E) ২৯০ স্কয়ার ফিটের রুম বুকিং দিয়ে ১৬ লক্ষ ৬১ হাজার পাঁচশ টাকা পরিশোধ করেছেন ২০১৪ সাল পর্যন্ত।  হুমায়ুন কবীর নামের আরেক জন গ্রাহক একই বছরের ১১ জুন ৩০৫ স্কয়ার ফিটের  ফ্লাট বুকিং দিয়েছিলেন (520 E2) ; বিনিময়ে ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পরিশোধ করেছেন ৩,২৯,৭৮৫ টাকা । ফারহানা চৌধুরী লুসি ২০১১ সালের  ১৮ অক্টোবর (1218 F) ২৪৫ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাটের জন্য দশ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত। সাঈদ রফিকুল হক ২০১১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি (৪৪২ E -6) ৩০৫  স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাটের জন্য বারো লাখ ৮৫ হাজার টাকা এককালিন পরিশোধ করেছেন ২০১৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ; স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে তারও৷ ২০১২ মে মাসে মোহাম্মদ জাহিদুল্লা রিপন নামের আরেক গ্রাহক ২৯০ স্কয়ার ফিটের ফ্লাট (419-E) বুকিং দিয়েছিলেন এই প্রকল্পে। তিনি ২০১৫ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত স্বপ্নের ফাঁদে ১২ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। হালিমা খাতুন নামের আরেক গ্রাহক ২০১১ সালের  ৯ ই মে ( 619 G1 ) ৩২৫ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাট বাবত ১৪ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা এককালীন পরিশোধ করেছেন। সালাম আরেফ নামের আরেক ব্যক্তি ২০১১ সালে ২৮৫ স্কয়ার ফিটের ( 822 C) ফ্ল্যাটের জন্য ৯,২০,২৫০ টাকা পরিশোধ করেছেন ২০১৩ সাল পর্যন্ত।

মিসেস তানিয়া হোসেন নামের আরেক জন গ্রাহক ২০১২ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি নিজের নামে ফ্ল্যাট বুকিং দিয়েছিলেন এই প্রকল্পে৷নিয়াজ আহমেদ জাওয়াদ এবং তার স্ত্রী নাসরিনা রহমান নিজেদের নামে একটি ফ্ল্যাট বুকিং দিয়েছিলেন ২০১১ সালের ২৭ জুলাই ; পুরো টাকা পরিশোধও করেছেন । নাদিয়া জাহান মোল্লা ইভানা প্রকল্পটিতে ফ্ল্যাট  বুকিং দিয়েছিলেন ২০১১ সালের ২৮ অক্টোবর। মোঃ হুমায়ুন রশীদ ২০১১ সালের ২৮ অক্টোবর, মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ২০১২ সালের ২৯ নভেম্বর নগদ টাকা পরিশোধ করে ফ্ল্যাট বুকিং দিয়েছিলেন। এসএম মনিরুজ্জামান ২০১১ সালে ;   এটিএম ইয়াসিন ফেরদৌস ২০১২ সালের ৮ আগস্ট হোয়াইট সেন্ড প্রকল্পে ফ্লাট বুকিং দিয়েছিলেন। এটিএম ইয়াসিন ফেরদৌস নামের আরেক গ্রাহক ২০১১ সালের ১৭ ই জুন নিজের নামে ফ্ল্যাট বুকিং দিয়েছিলেন।

আরএফ বিল্ডার্স এর দেখানো স্বপ্নের এই ফাঁদে পা দিয়ে  হাজী মনির হোসেন এবং হাজী আক্তার হোসেন নামের দুইজন নিজেদের নামে ২০১১ সালে ফ্ল্যাটের বুকিং মানি পরিশোধ করেছেন ; নিয়মিত কিস্তিও পরিশোধ করেছেন। ডা. গোলাম রাজ্জাক চৌধুরী ২০১২ সালের ২১ শে নভেম্বর   (1011 F)  নিজের নামে ফ্ল্যাট বুকিং দিয়েছিলেন । রুবায়েত আলম নামের আরেক গ্রাহক ২০১১ সালের ১৮ অক্টোবর (ফ্ল্যাট ১০১২ F) ; পুনম শাহা  ২০১৩ সালের ৭ ই জানুয়ারি ( ফ্ল্যাট ১০২২ C ) ; মিসেস শারমিন সুলতানা ২০১১ সালের ২৫ শে মে( ১২০১ – A), মোহাম্মদ সাজ্জাদ মঞ্জুর হোসেন ২০১১ সালের ১৮ ই জুন (১২০৭ C)সাবিনা হাসান ২০১১ সালের ২৯ শে জানুয়ারি ( 1211 F)। ইখতেদার রহমান এবং বেগম লুৎফুরনাহার বাজলি রহমান ২০১১ সালের ৩০ শে জানুয়ারি ( 1219 E) নিজ নিজ নামে ফ্ল্যাট বুকিং দিয়েছিলেন। গেল দশ বছরেও সেই স্বপ্নের ‘ গোল্ডেন স্যান্ড’ আলোর মুখ দেখেনি।

ওয়ার্ল্ড বিচ রিসোর্ট

কলাতলী মোড়ে ১৩ তলা বিশিষ্ট ওয়ার্ল্ড বিচ রিসোর্ট নির্মানের জন্য ২০০৮ সালের ৪ মে আরএফ বিল্ডার্সের সাথে  রেজিষ্ট্রিকৃত চুক্তিপত্র হয় জমির মালিকদের সাথে। কিন্ত আরএফ বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক   হাজী দেলোয়ার জমি মালিকদের যেমন তাদের প্রাপ্ত অংশ বুঝিয়ে দেয়নি ; তেমনভাবে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করা গ্রাহকরাও ফেরত পান নি টাকা। বরং তাদের বঞ্চিত করার জন্য সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে হুমকি দেয়ার পর গত বছর ছেলেসহ গ্রেফতার হন হাজী দেলোয়ার।  ভুক্তভোগী জমির মালিকদের অভিযোগ ওইভবনে ডেকে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের কোন দাবি নাই মর্মে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পও আদায় করে নেন তিনি । এর পরিপ্রেক্ষিতে  চাঁদাবাজি ও মারামারির মামলা হাজী দেলোয়ার ও তার ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়।

ওয়াল্ড বিচ রিসোর্ট নামের প্রকল্পটিতে অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে গাড়ির বাস কাউন্টার, দুটি স্টিলের সিঁড়ি, রেস্টুরেন্ট, অফিস, ড্রাইভওয়েতে দোকানসহ অনেক স্থাপনা। এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ফলে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা নেই বললেই চলে। এই পর্যন্ত দুইবার নোটিশ দিয়ে অবৈধ এসব স্থাপনা সরানোর নির্দেশ দিয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

তথ্যমতে, প্রকল্পটির নিচতলায় নকশায় দেখানো হয়েছিল গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা। কিন্তু করা হয়েছে অফিস ; বিভিন্ন বাস কাউন্টারকে ভাড়ায় দেয়া হয়েছে এসব অফিস। বাস কাউন্টারের সামনে যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরে যানজট হচ্ছে প্রতিদিন।

ক্যাপ্টেন শহীদ উদ্দিন মাহমুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আর এফ বিল্ডার্স ২০১২ সালে সকল ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়ার কথা। এখনো পর্যন্ত কাজ সমাপ্ত করে নি। উল্টো সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হোটেলটি দখলে রেখেছে। জিম্মি হয়ে আছে জমি ও ফ্ল্যাট মালিকগণ। অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাদের শতকোটি টাকার বিনিয়োগ।

ওয়াল্ড বিচ রিসোর্টের ফ্ল্যাট মালিক প্রফেসর ডাঃ আবুল কাসেম জানান, ২০১২ সালে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেবার কথা এখনো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয় নি আরএফ বিল্ডার্স।  ইতোমধ্যে নানাভাবে প্রতারণার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের শতকোটি টাকা আত্নসাত করেছে। ‘

হয়রানির শিকার ফাতেমা আক্তার জানান, গ্রাহকরা তাদের ক্রয়কৃত ফ্ল্যাট বুঝে নেয়ার জন্য গেলে আর এফ বিল্ডার্সের নিয়োগকৃত সন্ত্রাসীরা হুমকি ধমকি দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়। ‘

গোল্ডেন স্যান্ড ‘

আরএফ বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী দেলোয়ার হোসেন একইভাবে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের কলাতলিতে স্বপ্নের ফাঁদ পেতে সর্বশান্ত করেছেন দেশের অনেক ব্যবসায়ী, প্রবাসী কর্মজীবীদের। প্রকল্পের নাম দিয়েছিলেন ‘ গোল্ডেন স্যান্ড’।২০১০ সালে গোল্ডন সান্ড  নামের এই প্রকল্পের সাইটবোর্ড ব্যবহার করে অন্তত ত্রিশ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। সুত্রমতে ; ২০১০ সালের ৯ মার্চ এডভোকেট রফিকুল ইসলাম গং থেকে আমমোক্তার নামা সংগ্রহ করেছিলেন।

‘হোয়াইট স্যান্ড ‘

২০১০ সালের ২৮ শে আগস্ট আন্জুমান আজাদ দশ তলার ৩৫৫ বর্গফুটের (1042- F) ফ্লাটের জন্য  ১৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা দিয়ে প্রথম বুকিং দেন এই প্রকল্পে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত  সতের লাখ ৭৫ হাজার টাকার মধ্য ১৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা পরিশোধ করেছিলেন। পৌরসভা থেকে অনুমোদন নেয় ১৭ জুন ২০১০ সালে ( স্মারক ১৪১/১০ ক) ( আমমোক্তার  দলিল নং ১২৩৪, ০৯/০৩/২০১০)। এই প্রকল্পের জন্য বিদ্যুৎ এর অনুমোদন নেয় ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ; অথচ এই প্রকল্পটি ফাইলিংএ সীমাবদ্ধ রয়েছে।

হোয়াইট স্যান্ডের রঙ্গিন বিঙ্গাপন খেই হারিয়ে শামীম আরা আক্তার নামের এক গ্রাহক ( 504 G) ৫০০ বর্গফুটের রুমের জন্য ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এককালীন পরিশোধ করেছেন ; ফ্লাটের দেখা মেলেনি দশ বছরেও। এসএম আমিনুল ইসলাম নামের আরেক গ্রাহক ( 631 C) ৫৬৫ বর্গফুটের রুমের জন্য ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এককালীন পরিশোধ করেছেন। মিসেস সেলিনা বেগম নামের আরেক গ্রাহক ( 662 I) ৭৩৫ বর্গফুটের রুমের জন্য ৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এককালীন পরিশোধ করেছেন। শাহনাজ পারভীন লিপি নামের আরেক গ্রাহক (  762 – I ) ২৯৫ বর্গফুটের রুমের জন্য ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা এককালীন পরিশোধ করেছেন। এম.ডি ফেরদৌস রহমান নামের আরেক গ্রাহক (  971 C1) ৪৪৫  বর্গফুটের রুমের জন্য ২৫ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা এককালীন পরিশোধ করেছিলেন। তফাজ্জল হোসেন  ( 1004 – G) ৫০০ বর্গফুটের রুমের জন্য ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এককালীন পরিশোধ করেছেন। নথি অনুযায়ী ; হারুন ডব্লিউ বি চৌধুরী (1005-D) পাঁচশো ২০ বর্গফুটের রুমের জন্য ১২ লাখ টাকা এককালীন পরিশোধ করেছেন। নাহিদ চৌধুরী (1031 C) ৫৬৫ বর্গফুটের রুমের জন্য ২১  লাখ নব্বই হাজার টাকা এককালীন পরিশোধ করেছেন। একই প্রকল্পে কেশব কুমার রায় পরিশোধ করেছেন ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। আন্জুমান আজাদ নামের আরেকজন পরিশোধ করেছেন ১৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা। নথি অনুযায়ী ; আক্তার হোসেন এবং সালমা আক্তার শারমিন দশ লাখ টাকা নিরানব্বই হাজার টাকা এককালীন পরিশোধ করেছেন।

নথি অনুযায়ী ; মেজর এমডি সেলিম হাসান (1118 D, 1119 D ) পাঁচশো ২০ বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট বাবত ২৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা এককালীন পরিশোধ করেছেন। মিসেস রিনা বেগম (1129 A c3) ৪১৫ বর্গফুটের ফ্লাটের জন্য ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেছিলেন। এছাড়া, এমডি ওমর ফারুক (1129 B -C3) ৪১৫ বর্গফুটের ফ্লাটের জন্য ১৭ লাখ চল্লিশ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। মনির আহমেদ রুমেল (1141 A) ৭৩৫  বর্গফুটের  ফ্ল্যাট বাবত ৩১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এককালীন পরিশোধ করেছেন। ১৬ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন।

আরএফ বিল্ডার্সের অন্য প্রকল্পগুলো হলো ওয়াল্ড ভিউ রিসোর্ট (মেরিন ড্রাইভের পাশে), ভাকেশন সিটি, কক্সবাজার শপিং মল, পার্ল অব পানামা।