চট্রগ্রাম শাহ আমানতে কার্গো খালাস চালু করার সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ মেইল::

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমান বন্দরে কার্গো খালাসের কার্যক্রম অঘোষিতভাবে বন্ধ থাকার পর কার্গো খালাসের কার্যক্রম পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের পক্ষ থেকে। বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা জারী করেছেন কাস্টমস কমিশনার।

চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমান বন্দরে কার্গো খালাস এবং কার্গো ফ্লাইট বন্ধ থাকার কারণে ব্যাগেজ রুলের অতিরিক্ত পণ্য দেশে এনে প্রবাসী যাত্রীরা, সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী এবং আমদানিকারকরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। দীর্ঘ দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমান বন্দরে কার্গো খালাস বন্ধ থাকার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফেরা যাত্রীর। জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী যাত্রী ‘এ’ ফর্ম পুরন করে সিএন্ডএফকে হস্তান্তর করেন। যাত্রীদের পক্ষে সিএন্ডএফ সবসময় সেই পণ্য খালাস করেন। দীর্ঘ দুই সপ্তাহ যাবৎ চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে কার্গো খালাস বন্ধ থাকার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের শীর্ষকর্মকর্তারা বৈঠক করে রবিবার থেকে পণ্য খালাস শুরু করা নির্দেশনা দেন। কিন্তু সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীরা বৃহস্পতিবার কাগজপত্র জমা দেবার জন্য গেলে তাদের কাগজপত্র জমা না নিয়ে নতুন নীতিমালার কথা জানান চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের সহকারী কমিশনার জয়নাল।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যার যার পণ্য তাকেই খালাসের জন্য হাজির হওয়ার নির্দেশ না দেওয়ার কথা জানানো হয়। কিন্তু বিদেশ ফেরত অনেক যাত্রী চট্টগ্রামের বাইরে অবস্থান করছেন। তাদের পাসপোর্ট সহ যাবতীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে পণ্য খালাস করার নিয়ম মানতে নারাজ দায়িত্ব প্রাপ্ত সহকারী কমিশনার।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার জয়নাল আবেদন জানান, ‘ সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দের কারণে ভুয়া অভিযোগ বিভিন্ন সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, সেই কারণে কাস্টমস পণ্য খালাস বন্ধ রেখেছিল। পরবর্তীতে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। রবিবার থেকে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীরা কাগজপত্র জমা দিলে কার্গোতে আসা পন্য খালাস করা হবে। ‘

জানাযায়, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে প্রতি সপ্তাহে একটি কার্গো ফ্লাইট আসে। কার্গোতে পাঠানো পণ্যের আশি শতাংশই প্রবাসী বাংলাদেশিদের। গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা জরুরী কিছু কাঁচামাল কার্গোতে করে চট্টগ্রাম আনেন। গেল দুই সপ্তাহ ধরে কার্গো ফ্লাইট চট্টগ্রামে না আসার কারণে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে পণ্য ছাড় করতে হয়েছে গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের। দুই সপ্তাহ ধরে নতুন কার্গো ফ্লাইট চট্টগ্রামের না আসার কারণে প্রায় বিশ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারিয়েছে কাস্টমস হাউস। চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে কার্গো খালাসে অচলঅবস্থা দুর হলে স্থানীয় সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।