রাজনৈতিক কারণে ইনজুরির পরও সমালোচনার শিকার হচ্ছেন নেইমার

বাংলাদেশ মেইল::

দারুণ এক জয়ে বিশ্বকাপ সফর শুরু করেছে ব্রাজিল। তবে নেইমারের চোট সেই আনন্দ অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছিল তাদের। দলের সেরা স্ট্রাইকার চোটে পরেছে, খুব স্বাভাবিক ভাবেই তাকে সহানুভূতি দেখাবেন তার দেশের মানুষরা এটাই কাম্য। তবে অপ্রত্যাশিতভাবে চোটে পরার পর থেকেই দেশের মানুষরা নেইমারকে নিয়ে সমালোচনা করছেন।সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল করছেন।নেইমারকে নিয়ে ট্রল করার কারণটা রাজনৈতিক বলে জানিয়েছেন তার সতীর্থ কাসেমিরো।

কিছুদিন আগে ব্রাজিলের নির্বাচনে বামপন্থী লুলা দা সিলভার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জাইর বলসোনারোকে সমর্থন দিয়েছিলেন নেইমার। এখানেই শেষ নয়। বলসোনারোকে সমর্থন জানাতে গিয়ে নেইমার বলেছিলেন, এবারের বিশ্বকাপে তার প্রথম গোলটা তিনি বলসোনারোকেই উৎসর্গ করবেন। তাতে ব্রাজিল জনতা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে নেইমারের দিক থেকে।
অভিযোগ আছে, কোভিডের সময় কোনও কাজ করেননি বলসোনারো। উল্টো প্রচুর দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে। যা নিয়ে দেশের মানুষ প্রচণ্ড বিরক্ত ছিল। ব্রাজিলিয়ানরা যখন খাদ্য-বস্ত্রের লড়াইয়ে বলসোনারোকে সরিয়ে লুলাকে আনতে চাইছেন, তখন দুর্নীতিগ্রস্ত বলসোনারোকে জেতানোর জন্য নেইমারের পাশে দাঁড়িয়ে যাওয়াকে ভালোভাবে নিতে পারেননি ব্রাজিলের জনগণ। রাগটা তখন থেকেই। নেইমারের প্রতি দেশবাসী এমন রাগ মেনে নিতে পারছেন না তার সতীর্থ কাসেমিরো।

তিনি বলেন, ‘নেইমারের প্রতি এমন আচরণ মেনে নেয়া যায় না। আপনি অন্য কারো অমঙ্গল চাইতে পারেন না। নেইমার একজন ভালো মানুষ। সে অন্যদের অনেক সাহায্য করে। ’নেইমার বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন ফুটবলার। আমি তার সঙ্গে খেলতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। তার মতো ফুটবলারকে দল থেকে হারানো বিশাল ক্ষতি। ’

এর আগে নেইমারের পক্ষ নিয়ে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন তার সতীর্থ রাফিনহা। সমর্থকদের আচরণে তিনি এতটাই হতাশ হয়েছিলেন যে তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলে জন্ম নিয়েই ভুল করেছে নেইমার। ওর মতো প্রতিভাকে ব্রাজিল সম্মান জানাতে পারে না!’ বিশ্বকাপ না পেলেও, জাতীয় দলের হয়ে গোলসংখ্যায় ব্রাজিলে এই মুহূর্তে পেলের পরেই নেইমারের স্থান। দেশের জনগণের সঙ্গে নেইমারের সম্পর্কের রসায়নটা একমাত্র ঠিক হতে পারে যদি তিনি ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারেন।