চট্টগ্রামে অবাধে পাহাড় কেটে প্লট করার অভিযোগ

বাংলাদেশ মেইল :::

অবাধে পাহাড় কেটে প্লট করার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম নগরীর জালালাবাদ ২ নং ওয়ার্ড আরিফিন নগর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে।নজরদারীর অভাবে বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরের ভেতরে পাহাড় কাটায় সবচেয়ে আলোচিত এলাকা হয়ে উঠেছে আরেফিন নগর এলাকাটি। মূলত, এলাকাটিই পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছে। এই এলাকায় অবশিষ্ট থাকা পাহাড়গুলো দিন দিন কেটে স্থাপনা নির্মাণ করছে এই দখলদাররা। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রথমে পাহাড়ের নিম্নাংশ কেটে বেশ কিছুদিন রেখে দেয়া হয়। সে সময় পাহাড়ের চারপাশে টিন কিংবা কোনো অস্থায়ী স্থাপনা দিয়ে আড়াল তৈরি করে এরপর মাটি সরিয়ে নেয়া হয়। মূলত পাহাড় কাটার জন্য বর্ষা মৌসুমকেই বেছে নেয়া হয় এই এলাকাতে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে অবস্থিত এ এলাকায় মাঝে মধ্যে প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হলেও নির্বিচারে পাহাড় কাটা চলছেই।

সম্প্রতি দেখা গেছে বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদের নাম ভাঙিয়ে পাহাড় কাটার কার্যক্রম চালাচ্ছে প্রভাবশালীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নির্দেশেই চলছে এসব কাজ। পাহাড় কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও রূপসী হাউজিংয়ে তা মানাই হচ্ছে না। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, আরিফিন নগরের জাহাঙ্গীর সাত্তার টিঙ্কুর পাহাড় সংলগ্ন পাহাড়তলী মৌজার বি এস ৩০৬ দাগে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, শাহাবুদ্দিন,সালাউদ্দিন, হাবিব এবং আরফিন নগরের মুক্তিযোদ্ধা কলোনীর রূপসী হাউসিং সোসাইটিতে দুলাল, ও নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে এবং বিদ্যুৎ অফিসের পাশে ডাকাত কাল্লুসহ তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পাহাড় কেটে প্লট, বাড়ি ঘর তৈরি করার প্রকাশ্য মহোৎসব চলছে ।

শাপলা আবাসিক এলাকা নামে পরিচিত আরেকটি এলাকায় গিয়ে চোখে পড়ে পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা নতুন নতুন বসতি। থেমে নেই পাহাড় কাটা। নতুন এই আবাসনের নাম দেওয়া হয়েছে রূপনগর আবাসিক এলাকা। এটি চট্টগ্রাম শহরের প্রবেশমুখ সিটি গেট এলাকার পশ্চিমে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই এলাকায় পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি করা হচ্ছে অবাধে।

এখনো দুটি জায়গায় পাহাড় কাটা চলছে। রুবি আকতার ও ফয়েজ আহমদ নামের দুজন নতুন করে দুটি প্রায় ৫০ ফুট উঁচু পাহাড় কাটছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুই মাস ধরে এই পাহাড় কাটা চলছে, কিন্তু নির্বিকার পরিবেশ অধিদপ্তর।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর (মহানগর মেট্রোপলিটন) পরিচালক হিল্লোল বিশ্বাস বলেন, বন্দরনগরীর হাজার হাজার শিল্প-কারখানার পরিবেশ দূষণসহ বিভিন্ন নজরদারির মধ্যেও পাহাড় কাটা রোধে প্রায় প্রতিদিনই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এর পরও পাহাড় কাটা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রভাবশালীরা নানা কৌশল অবলম্বন ছাড়াও স্বল্প আয়ের মানুষদের পাহাড় কাটায় ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। সাম্প্রতিক সময়ে নামজারি না করে পাহাড় কাটা ও মামলায় জামিনে বেরিয়ে এসে আরো বেপরোয়াভাবে পাহাড় কাটার ঘটনা দেখা গেছে। স্বল্প জনবল সত্ত্বেও সাধ্যমতো পাহাড় কাটা রোধে চেষ্টা করা হচ্ছে।

তথ্যমতে, পরিবেশ আইন অনুযায়ী পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রতি বর্গফুটে ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা হারে জরিমানার বিধান রয়েছে। অধিদপ্তর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে পাহাড় কাটায় অভিযুক্তকে জরিমানা করে। পরে কয়েক দফায় অভিযোগ পাওয়া গেলে জরিমানার পর আদালতে মামলা করা হয়। এসব মামলা নিষ্পত্তি হতে ৫ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়। তাছাড়া অভিযুক্তরা গ্রেফতারের পর জামিনে এসে আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অতীতে দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড় কাটা বন্ধে স্থানীয়রা সচেতন না হলে কেবল সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষে এসব রোধ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ওপর জোর দেন পরিবেশবাদীরা। তাদের শঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া না হলে চট্টগ্রামের অবশিষ্ট পাহাড়গুলোরও আর অস্তিত্ব থাকবে না।