বছর জুড়ে সংবাদের শিরোনাম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন

বাংলাদেশ মেইল :::

বছর জুড়ে নানা কারনে সংবাদের শিরোনাম হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। গণমাধ্যম জুড়ে চসিকের বিভিন্ন প্রকল্পে দূর্নীতির ডালপালার বিস্তার নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হবার পরও দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ভারতীয় নমনীয় ঋন সুবিধার ২৬১ কোটি টাকার এলইডি প্রকল্পের দরপত্রে নজিরবিহীন অনিয়ম ধরা পড়ে। কিন্তু চুপ থেকে দায়িত্ব শেষ করেছে চসিক।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ঠিকাদারী – লটারী ছাড়া কাজ বিক্রি, অনিয়মের পক্ষে সিটি কর্পোরেশনের টাকায় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার বিষয়ও গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ উপ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাসের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলেও লঘুদন্ডে দায়িত্ব শেষ করেছে চসিক। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ উপ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাসের আবাসন ব্যবসা, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে লুটপাট, একটি খুঁটিতে বিশ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগের তদন্তই করেনি সংস্থাটি। জাইকা এলইডি প্রকল্পের কাজটিতে নিম্মমানের ক্যাবেল, পুরোনো পুল ব্যবহারসহ ক্রুটিপুর্ণভাবে সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠে এইসটিএমএস লিমিটেড নামেন একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে নতুন এলইডি বাতি স্থাপনের প্রকল্পের (২৬১ কোটি টাকার এলইডি)  দরপত্রে মূল্যায়নে তাদেরকে সর্বোচ্চ নাম্বার দিয়ে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আফতাব আহমেদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের  কালো তালিকাভুক্ত এমন খবরও গণমাধ্যম প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি সামাল দেবার জন্য জালিয়াতির আশ্রয় নেন প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশ। দরপত্রের নথি পরিবর্তন করে এনার্জি প্যাক নামের নতুন প্রতিষ্ঠানের নাম যুক্ত করেন প্রকল্প পরিচালক ঝুলন কুমার দাশ। অথচ স্বয়ং চসিকের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেছিলেন এনার্জি প্যাকের নামই তিনি প্রকল্পের উপ ঠিকাদার হিসেবে শুনেন নি। উপ ঠিকাদার হিসেবে নতুন করে যুক্ত করা এনার্জি প্যাক নামের প্রতিষ্ঠানটির একই ধরনের কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতাই নেই।

পদোন্নতি নিয়ে নজিরবিহীন অনিয়ম ধরা পড়ে এই সংস্থায়। সর্বশেষ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে বিদ্যুৎ উপ বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী এনামুল হকে পদোন্নতি বাতিল করা হয়। বছর জুড়ে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামও ছিলেন শিরোনামে। নিজের ছেলের নামে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ঠিকাদারি করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। গেল সেপ্টেম্বর মাসে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন  সাড়ে তিন মাস পর। যদিও মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিবালয় কোন তথ্য দিতে পারেনি প্রতিবেদককে।

জেষ্ঠ্যতা লংঘন করে পদোন্নতি দেওয়ার বহু নজির সৃষ্টি করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। সর্বশেষ নিজের পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়ার কারণে হাইকোর্টে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রকৌশলী। আদালত চারটি পদে নিয়োগ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেবার পরও পাঁচটি পদে সহকারী প্রকৌশলী  নিয়োগের চুড়ান্ত তালিকা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল আলম।এমন ঘটনায় আবারও সংবাদের শিরোনাম হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। এই ঘটনার একদিন পর ২৯ ডিসেম্বর সিটি কর্পোরেশনের অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তার কার্যালয়ে।

রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অনিয়ম মাত্রা ছাড়িয়েছে। বাড়তি কর আদায় নিয়ে আন্দোলনে রাজপথে ছিলো কর সুরক্ষা পরিষদ। সেই আন্দোলন গড়িয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে শহর ছাড়া করার  হুমকি দেয়ার পর্যায়ে। চসিকের রাজস্ব বিভাগের আপিলের নামে ঘুষ, পরিছন্ন বিভাগে ‘ ময়লা বাণিজ্য’ শিক্ষা বিভাগে কর্মকর্তাদের স্বজনদের নিয়োগ দেয়া, জামাত শিবিরের নেতাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রাধান্য দেয়া, অবৈধ টাকা সাদা করার জন্য প্রকৌশল বিভাগে চাকরির পাশাপাশি ঠিকাদারি – গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়।

২০২২ সালের পুরো বছরটি অনিয়ম, বিশৃঙ্খলার, স্বেচ্ছাচারিতার  মধ্য দিয়ে পার করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে চুপ থাকার নজির স্থাপন করেছেন সিটি মেয়র।