বাবার সম্পদ দখল করতে গিয়ে মামলায় জড়ালেন মীর হেলাল

বাংলাদেশ মেইল :::::

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ও তার ছেলে মীর হেলালের ‘সম্পদ’ নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য এসেছে । শুক্রবার (২০ জুলাই) বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল ‘ নুসরাত মেমোরিয়াল টাওয়ার ‘ দখলের চেষ্টা চালালে হাটহাজারী থানা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের কেয়ারটেকার নুরুল ইসলাম। হাটহাজারী পৌরসভার আলীপুরে নুসরাত মেমোরিয়াল টাওয়ারটি অবস্থিত। নুসরাত মেমোরিয়াল টাওয়ার দখলের অভিযোগ এনে মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের কেয়ারটেকার নুরুল ইসলাম শনিবার (২২ জুলাই) এই মামলা দায়ের করেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায়।

হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহারে ব্যারিস্টার মীর হেলালসহ নয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ২০/২৫ অজ্ঞাতনামা দূর্বৃত্তকে আসামী করে মামলাটি দায়ের করেছেন মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের কেয়ারটেকার নুরুল ইসলাম। নুসরাত মেমোরিয়াল টাওয়ারে বেআইনি প্রবেশ ও চাঁদাদাবির অভিযোগ আনা হয়েছে মীর হেলালসহ নয় আসামি বিরুদ্ধে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে মীর হেলালের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা তরিকুল ইসলাম ত্বকি, জিএম সাইফুল, মনিরুল ইসলাম জনি, মো সাহেদ, গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান, সাইফুল, এমরান শিকদার, মিজানের নাম।পেনাল কোর্টের ১৪৩,৪৪৮,৩৮৫,৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে মীর হেলাল ও তার অনুসারী যুবদল ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে। এদিকে, মামলা দায়ের করার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে শহরে অবস্থান করছে এজাহারে উল্লেখ করা যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, ‘ পিতা ছেলের সম্পত্তি নিয়ে ঝগড়া পুরোনো। কিন্তু রাজনীতির মাঠে এভাবে বাবার সম্পদ দখল প্রচেষ্টা বিএনপির ভাবমূর্তি নস্ট করবে। এমন ঘটনা পিতার দূর্নীতিকে স্পষ্ট করেছে। একই সাথে রাজনীতিবিদদের জন্য অবৈধ সম্পদ উপার্জনের বিপক্ষে কড়া বার্তা রয়েছে। ‘

এরআগে ইসকন মন্দিরের একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মীর হেলালকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন ‘ যে নিজের বাবার সাথে সম্পদ নিয়ে ধাক্কাধাক্কি করতে পারে তার জন্য মন্দিরের জায়গা জমি দখল বড় কিছু নয়। ‘

এরআগে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মেখল পু-রীক ধামের অধীন লক্ষ্মী জনার্দন সরোবরের জায়গা দখলের অভিযোগ উঠে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন ও তাঁর ছেলে মীর হেলালের বিরুদ্ধে। গত ১৮ জুন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জমি দখলের অভিযোগ করেন আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) নেতারা। তাদের অভিযোগ, মীর নাছির ও তার ছেলে হাটহাজারী উপজেলার পুণ্ডরীক ধামের চলাচলের পথ দখলের পাঁয়তারার পাশাপাশি সাধু-সন্ন্যাসীদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। তবে সংবাদ সম্মেলনের পরে বিএনপি নেতার পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ নাকচ করা হয়েছিলো। এবার হাটহাজারী থানায় মীর নাসিরের কেয়ারটেকার নুরুল ইসলামের দায়ের করা মামলার সুত্রে পিতা পুত্রের সম্পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব পরিস্কার হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাটহাজারী উপজেলার মিরেরহাটের মীরের খিল এলাকায় পিতা পুত্রের সম্পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। নানামুখী সমালোচনা হচ্ছে বিএনপির দুই নেতার পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদকালে উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে মীর হেলাল প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তার করলেও, বর্তমানে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বাবা ছেলে। মীর হেলালের বিরুদ্ধে এরআগে চট্টগ্রামে ঝাড়ু মিছিল করে পদবঞ্চিত ছাত্রদল যুবদলের কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতাদের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে বিকাশ কমিটির জন্ম দিয়েছেন মীর হেলাল। এছাড়া আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে জামাল উদ্দিন হত্যা মামলার আসামি কালা হেলালকে পদে বসিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন হেলাল। পরে কালা হেলালসহ পাঁচজনকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো বিএনপি থেকে। সাতকানিয়া লোহাগাড়া পৌর ও উপজেলা বিএনপির কমিটি নিয়ে বিতর্কিত হন মীর হেলাল। মীর নাসিরের সাবেক কর্মচারী জামাল উদ্দিনকে আহবায়কের পদ কিনে দেবার অভিযোগ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের এই নেতার বিরুদ্ধে।স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়দের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় ছাত্রদল,যুবদল,স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীদের শীর্ষ পদ পদবিতে বসিয়ে হাটহাজারী বিএনপির রাজনীতিকে দূর্বল করেছেন তিনি।

জানা যায়, মামলার পর হাটহাজারী সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় মীর হেলালের অনুসারীদের খোঁজে মাঠে নামে পুলিশ। জনি-ত্বকিসহ সবাই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাবার পর রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মীর হেলাল তার ফেজবুকে আরশাদ মির্জা নামের এক অনুসারির ‘আমরা হেলালিয়ান’ লেখা স্টাটাস শেয়ার করেছেন।

এক এগারোর সময়কালে ২০০৭ সালের ৬ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মীর নাছির ও তার ছেলে মীর হেলালের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২ একই বছরের ৪ জুলাই এক রায়ে মীর নাছির উদ্দিনকে আলাদা ধারায় তিন বছর ও ১০ বছরের দণ্ড দেন। একই সঙ্গে ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে দুই বছরের দণ্ড দেন।এ ছাড়া তার ছেলে মীর হেলালকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকার অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক মাসের দণ্ড দেন। পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা হাইকোর্টে আলাদা দু’টি আপিল করেন।