ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে
ঘুরতে গিয়ে প্রাণ গেলো এক কারখানার সাত জন

বাংলাদেশ মেইল ::

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত সাতজনই এক কারখানার কর্মী ছিলেন। যারা সাবাই বেড়াতে বের হয়েছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন চারজন। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার ঘাসিরদিয়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।জানা গেছে, ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার এসবি নিটিং নামের একটি পোশাক কারখানার কর্মী ছিলেন ওই সাতজন। এসবি নিটিং কারখানায় চাকরির সুবাদে তারা সবাই একসঙ্গেই চলাফেরা করতেন।

দলবল নিয়ে সিলেট ভ্রমণের জন্য বৃহস্পতিবার মাইক্রোবাস নিয়ে বেরিয়েছিলেন তারা, কিন্তু রাত আড়াইটার দিকে নরসিংদীতে দুর্ঘটনায় পড়ে তারা ফিরেছেন লাশ হয়ে।

সিলেট থেকে ছেড়ে আসা পাথরবোঝাই ট্রাক দ্রুতগতিতে আরেকটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গেলে মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। এতে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মাইক্রোবাসটির সাতজন নিহত ও চারজন গুরুতর আহত হন।

এসবি নিটিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মীর শেহাব উদ্দিন জাকির গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের কারখানার চালকসহ ১১ জন স্টাফ ভ্রমণের জন্য সিলেট যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় পড়েন। এতে সাতজনের মৃত্যু হয়। আহত চারজনকে ঢাকায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নিহতরা হলেন- টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের মীর কুমুল্লী এলাকার মোতাহের হোসেনের ছেলে মীর নাজমুল হক সবুজ (৩০), ঝালকাঠির রাজাপুরের পারগোপারপুর এলাকার আবদুল গনি হাওলাদারের ছেলে আল আমিন (২৯), গাজীপুরের কালিয়াকৈরের লতিফপুর গ্রামের আইয়ুব খানের ছেলে আল আমিন খান (২৭), মাদারীপুরের কালকিনির উত্তর কৃষ্ণনগর গ্রামের তোফায়েল হাওলাদারের ছেলে আবদুল আওয়াল (৩৭), বরিশালের মুলাদীর মুলাদী গ্রামের মো. মজিবর সিকদারের ছেলে রায়হান শিকদার ওরফে আরিয়ান (২৪), জামালপুর সরিষাবাড়ির ধারাবর্ষা গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে রাজু আহমেদ (৩৬) এবং গাজীপুরের শারাব এলাকার নুরুল মোল্লার ছেলে বাবুল হোসেন (৩৭)। তাদের লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

এছাড়া সাকিব আহমেদ (২৮), পারভেজ (২৯), দোয়েল (২২) ও মিথুন (৩৫) নামে ওই কারখানার চারজন হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জব্দ করা ট্রাক

ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ কবির হোসেন ভূঁইয়া জানান, দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মাইক্রোবাস ও পাথরবোঝাই ট্রাক জব্দ করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। ট্রাকটির চালকও আটক আছেন। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নরসিংদী সদর থানার ওসি হারুন অর রশিদ জানান, সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা সাতজনের মরদেহ শনাক্ত করেছে পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে নিয়মানুযায়ী মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মেহেদি হাসান জানান, হতাহত ছয় জনকে রাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে হাসপাতালে আনার পথে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অপর চার জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ কবির হোসেন ভূঁইয়া জানান, দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মাইক্রোবাস ও পাথরবোঝাই ট্রাক জব্দ করে ফাঁড়িতে আনা হয়েছে। ট্রাকের চালকও আটক আছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।