জকিগঞ্জের রতনগঞ্জ বাজারের বিশাল বটবৃক্ষ কাটা নিয়ে উত্তেজনা

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি:::

জকিগঞ্জের রতনগঞ্জ বাজারের অন্তত দুই শতবর্ষী বিশাল একটি বটবৃক্ষ কাটার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইতিমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাজারের সরকারি ভূমির গাছটি নিলামে বিক্রির জন্য স্থানীয় একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে ১৬ আগস্টের নিলামের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষনা করেন।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী গত ১৮ আগষ্ট ২.৩০ মিনিটের সময় রতনগঞ্জ বাজারে গাছটি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি হওয়ার কথা ছিল। এলাকার পরিবেশ সচেতনমহল বিষন ক্ষুব্ধ, তারা ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন মহলে লিখিত স্মারক লিপি দিয়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংঙ্খা করে কালের সাক্ষী ছায়ার অবলম্বন বিট্রিশ, পাকিস্থান আমলসহ বর্তমান বাংলাদেশের জীবন্ত সাক্ষী মহিরুহ বটবৃক্ষটি বিনা প্রয়োজনে কেটে বিক্রি করার চরম বিরোধীতা করে আসছে। তাছাড়া রতনগঞ্জ বাজারের প্রতিষ্ঠাতা রতনবাবুর স্মৃতি বিজড়িত ঐ বৃক্ষটি ঘিরে ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপসনালয় বলেও তারা অভিযোগে উল্লেখ করেন।

জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.কে.এম ফয়সাল পত্রিকার নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রতনগঞ্জ বাজারে মার্কেট নির্মাণের নিমিত্তে বটগাছটি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রয় করা হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের কাজলসার মৌজার ১নং খতিয়ানের জেএল নং ৫৯, এসএ দাগ নং-১৭১ ও ১৭২, বিএস দাগ নং-৫২৭ ও ৫২৮, এ দুটি দাগে সরকারি গ্রামীণ অবকাঠামোর মার্কেট নির্মাণের জন্য মেইন রোড তথা আটগ্রাম জকিগঞ্জ রোড সংলগ্ন নকশা অনুমোদন রয়েছে। অথচ স্থানীয় প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে অনুমোদিত নক্সাটিকে পাশ কাটিয়ে একই মৌজার এসএ ১৭০ তথা বিএস ৫১৬ নং দাগ থেকে কালের সাক্ষী বিশাল গাছটি কাটার বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় ছাপানো হয়েছে। নক্সার অনুমোদিত ভূমি হতে গাছটির দুরত্ব হবে অন্তত দেড়শত ফুট।

আসলে নক্সা অনুমোদনের দু’টি দাগের ভূমিতে একটি চক্রের অবৈধ জবরদখলকৃত মার্কেট রয়েছে। ঐ মার্কেটটিকে রক্ষা করতে মহলটি বিভিন্ন ভাবে উঠেপড়ে লেগেছে। অবৈধ মার্কেটটি ভাড়া দিয়ে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এ মহলটি। শাক দিয়ে মাছ ঢাকারমত সরকারি গ্রামীণ অবকাঠামোর মার্কেট নির্মাণের অযুহাতে গাছটি কাটানোর চেষ্টা করছে। জকিগঞ্জের সর্বশেষ বিদায়ী ইউএনও সুমী আক্তার ও সহকারি কমিশনার ভূমি পল্লব হোম দাস গত ৩১/০৫/২০২১ ইংরেজী তারিখে তখনকার উপজেলা প্রকৌশলী মনসুরুল হককে সাথে নিয়ে সরেজমিন তদন্ত করে কালের সাক্ষী বৃক্ষটি না কাটার পক্ষে মত দিয়ে অবৈধ দখলকৃত মার্কেট উচ্ছেদ করে মেইন রোড সংলগ্ন উপযুক্ত স্থানে সরকারি মার্কেটটি স্থাপনের সুপারিশ করে যৌথ স্বাক্ষরিত লিখিত প্রতিবেদন সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে দাখিল করেন। তাছাড়া সিলেটের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মোঃ মজিবুর রহমান গত ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ইংরেজী তারিখে জেলা পুরাতন মালামাল ও গাছ নিলাম সংক্রান্ত কমিটির সভার কার্য বিবরনীর ২নং সিন্ধান্তে যাচাই বাছাই করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে জকিগঞ্জ উপজেলার রতনগঞ্জ বাজারের উন্নয়ন কাজের জন্য গাছ কাটার প্রস্তাব অনুমোদন করা গেলনা মর্মে আদেশ প্রদান করেন। সরেজমিনে আরোও জানা যায়, সরকারের প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয় গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়নের মার্কেটটি কাজ পাওয়ার মূল ঠিকাদারের নিকট থেকে সাব লিজ নিয়ে এসেছেন সরকারি ভূমিতে অবৈধ মার্কেট দখলদার চক্র।

এ জন্য তারা মার্কেটের অনুমোদিত মূল নক্সাকে তোয়াক্কা না করে জকিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের নতুন কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গাছটি কেটে ভিতরের দিকে ৮০ ফুট বাই ৫০ ফুট পরিমাপের মার্কেট স্থাপনের চেষ্টা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রতনগঞ্জ বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, মেইন রোড সংলগ্ন মূল্যবান সরকারি ভূমি অবৈধ দখলদারদের হাতে তুলে দিয়ে ভিতরের বাজারের গাছ কেটে সরকারি মার্কেট স্থাপন করলে এ প্রকল্পে সরকারের লক্ষ্য উদ্দেশ্যের প্রতিফলন কোনভাবেই ঘটবে না। নির্মিতব্য মার্কেটটি জন কল্যাণেও কোন কাজে আসবে না। রোড সাইটের অন্য বেসরকারি বিলাশবহুল মার্কেটের সাথে প্রতিযোগিতায়ও টিকবে না। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে পরিবেশ বান্ধব বিশাল বটগাছটি কেটে ফেলার প্রক্রিয়া বন্ধ করে রোড সাইটে মূল্যবান সরকারি ভূমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে নক্সা অনুযায়ী গ্রামীন অবকাঠামোর বাজার উন্নয়নের মার্কেট নির্মাণ প্রয়োজন বলে এলাকাবাসী মনে করে।

বাংলাদেশ মেইল /নাদিরা শিমু/NS