ভুল তথ্যে বিব্রত গণমাধ্যমকর্মীরা
ফ্লাইওভারে দূর্ঘটনায় মৃত্যু, তরুনীর ভুল ছবিতে প্রশ্নবিদ্ধ গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা

:::নাদিরা শিমু:::

চট্টগ্রামের আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের লালখান বাজার-জিইসির মাঝখানে মোটর সাইকেলআরোহী তরুন তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় চট্টগ্রামসহ সারাদেশে।  সোমরার (২১ শে)  রাত সাড়ে দশটার দিকে এমন মর্মান্তিক দূর্ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে ভুল ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে। 

এই দূর্ঘটনায় নিহত তরুনীর  নাম নাহিদা সুলতানা (১৯) হলেও  ডিবিসি নিউজ,  আরটিভি,চ্যানেল ২৪, জাতীয় দৈনিকসহ  অধিকাংশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে রিতু বিশ্বাস (১৯) নামের সিটি কলেজের অপর এক ছাত্রীর ছবি। নিহত তরুণীর ছবি পাল্টে দিয়ে একটি পক্ষ সামাজিক মর্যাদা রক্ষার অপপ্রয়াসে ব্যবহার করেছে ভিন্ন একজন তরুনীর ছবি। ভুক্তভোগী  তরুণী নগরের সিটি কলেজে ডিগ্রি প্রথম বর্ষে ভর্তি হবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন । আর মৃত নাহিদা পড়েন নগরীর আরেকটি পলিটেকনিক  কলেজে। নিহত নাহিদা কেপিআর চিটাগং নামের একটি  বাইক রাইডার গ্রুপের সদস্য বলে জানা গেছে। সেখানেই ইমরানের সাথে তার পরিচয়।ইমরানের সহপাঠীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহত তরুনী চট্টগ্রাম শহরে কার সাথে বসবাস করেন সেই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন তারা।

অনেক গণমাধ্যমে নাহিদাকেও সিটি কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন নাহিদা সরকারি সিটি কলেজে পড়েন না।  যার ছবি প্রকাশিত হয়েছে সেও সরকারি সিটি  সিটি কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থী নন।

সত্যতা যাচাই করা ছাড়া ভিন্ন তরুনীর ছবি ব্যবহারের কারণে প্রশ্নের মুখে পড়েছে  গণমাধ্যম। তবে কে বা কারা কি উদ্দেশ্যে ওই তরুনীর ছবি মারা যাওয়া তরুনীর ছবি হিসেবে প্রচার করেছে সেই বিষয়ে কোন তথ্য মেলেনি। গণমাধ্যমে দূর্ঘটনায় নিহত দুইজনের বিভ্রান্তিকর পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,  নাহিদা কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার গোয়াখালী ১নং ওয়ার্ডের রাসেল চৌধুরীর মেয়ে। মোটরসাইকেল আরোহী হলেন মো. ইমরান প্রকাশ ইফতি (২৩)। তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট থানার পূর্ব মাদারবাড়ি দারোগাহাট শাহেদ পাড়ার ইউনুস মোল্লার ছেলে। ইমরান সিটি কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হলেও তার ভর্তি রয়েছে ইসলামিয়া কলেজে।

নাহিদা হালিশহর মহিলা পলিটেকনিক  কলেজের শিক্ষার্থী বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি মো. তাহসিন। কিন্তু নিহত তরুনী হিসেবে ভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী রিতু বিশ্বাসের ছবি কারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে সেই বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেন নি। ‘

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিন্ন তরুনীর ছবিটি সরকারী সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গণমাধ্যমে এসেছে। রিতু বিশ্বাসকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধানকে ব্যবহার করে সব গণমাধ্যমে পৌঁছানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে একই কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে রিতু বিশ্বাসের সাথে ইমরানের ছবি ফেসবুকে থাকলেও, দূর্ঘটনায় নিহত নাহিদা মহিলা হালিশহর পলিটেকনিকের ১ম বর্ষের ছাত্রী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগের এক নেতা জানান, নাহিদার ছবির বদলে  রিতু বিশ্বাসের ছবি প্রচার করার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন একটি বেসরকারি নিউজ চ্যানেলের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের ইনচার্জ। তিনিও সিটি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। নিহত ইমরান কলেজে রাজনীতির সাথে যুক্ত।

নিহত ইমরানের সহপাঠীরাও ভুল ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হবার পর কোন প্রতিক্রিয়া দেখান নি। বরং মঙ্গলবার ভোরে বিভিন্ন আত্নীয় স্বজনের ফোন পেয়ে রিতুর পরিবার গণমাধ্যমে ফোন করে বিভ্রান্তিকর ছবির বিষয়ে জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী এক গণমাধ্যম কর্মী প্রতিবেদককে জানান, ‘ ইমরান ও নাহিদার মোটর সাইকেলটি আমার পাঠাও রাইডকেও ঝুঁকিপুর্ণভাবে ওভারটেক করেছিলো।মিনিট দুয়েক পরে ফ্লাইওভারে দাঁড়ানো একটি অচল ট্রাকের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে সেই মোটর সাইকেলের । অভিভাবকদের গাফিলতি আছে। শুধু ছবি নয়, সবকটি  গণমাধ্যমে দূর্ঘটনার  ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে। ‘।

এদিকে, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত রিতু বিশ্বাস গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করলেও একটি টেলিভিশনের প্রতিবেদক তার কাছে  ফোন করার পরপরই মোবাইল বন্ধ করে দেন। রাত অবধি সেই মুঠোফোন বন্ধ রেখেছে মিতু। তার পরিবারের সদস্যরাও মোবাইল বন্ধ করে রেখেছেন। একারনে রহস্যের জট খুলেনি রিতুর প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ের।

 

বাংলাদেশ মেইল /নাদিরা শিমু/NS