চট্টগ্রামে বিএনপির মারামারি
লক্ষ্যবস্তু মীর হেলাল, আহত হয়ে আইসিইউতে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি

বাংলাদেশ মেইল :::

চট্টগ্রামে বিএনপির রোড় মার্চের প্রস্তুতি সভায়  হট্টগোলে মাঝে পড়ে ধাওয়া দলের নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন  বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল। নগর বিএনপির কার্যালয়ে   কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের উশৃংখল নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্চিত হন মীর হেলাল। বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাসিমন ভবনের সামনে মাঠে ও নুর আহমদ সড়কে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নগরের কাজীর দেউড়িতে নাসিমন ভবনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় রোডমার্চ কর্মসূচি সফল করতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির প্রস্তুতি সভা চলাকালীন কার্যালয়ের সামনের সড়কে মারামারিতে জড়ান দক্ষিণ জেলা  বিএনপির দুটি পক্ষের নেতা-কর্মীরা। এ সময় সংঘর্ষে আহত হয়ে আইসিইউতে ভর্তি আছেন দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবি। এ ঘটনায় অন্তত আরও ১০ জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও  দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে ব্যারিস্টার মীর হেলালের অযাচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনেন পদবঞ্চিত নেতারা। একারণে দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র এই মারামারিতে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন বিএনপির সদস্য মীর হেলাল।

পরে,  দক্ষিণ  জেলার ছাত্রদলের সভাপতিকে ছুরিকাঘাত করে দূর্বৃত্তরা। দক্ষিণ জেলা বিএনপির বিভিন্ন উপজেলা কমিটি, ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে   অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে  বিভক্তির সৃস্টি হয়। বিএনপির রাজনীতিতে ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত।  উত্তর জেলা তার নিজের ইউনিট হলেও মাথা ঘামান সব ইউনিটের কমিটি নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে সখ্যতাকে ব্যবহার  করে বিএনপি ছাত্রদল, যুবদলের কমিটিতে নিজের বলয় গড়ে তুলেছেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী নেতারা জানান, দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর বিএনপির কর্মসূচিতে পটিয়ার সাবেক সাংসদ শাহজাহান জুয়েল দলীয় কার্যালয়ে আসেন। এসময় পটিয়ার নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়। এর কিছুক্ষণ পর কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মীর হেলালের সঙ্গে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ সভায় ঢুকার সময় তাকে ধাওয়া দেয় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনামের অনুসারীরা। এসময় মহানগর বিএনপির সদস্য গাজী সিরাজসহ নগর নেতারা হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করেন। এ ঘটনার জের ধরে এনাম অনুসারীদের পাল্টা হামলা করে মীর হেলালের অনুসারী নগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, আসিফ চৌধুরী লিমন, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম জনি, তকিবুল হাসান তকি। এরপর সভা শেষে বের হওয়ার পথে হামলার শিকার হন এনাম অনুসারী দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবি। তাকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এসময় গাজী সিরাজ রবিকে হামলাকারীদের হাত থেকে ছাড়িয়ে দলীয় কার্যালয়ের ভেতর নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে একটি সিএনজি এনে তাকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি আছেন। দক্ষিণের সমস্যায় মীর হেলালের অনুসারীদের হামলার কারণ খুঁজে পাচ্ছে না দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে ছাত্রদলের আহ্বায়কের উপর হামলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মীর হেলাল ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খানের ইন্ধনে রয়েছে বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের।

জানা গেছে, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খান দীর্ঘদিন নিস্ক্রিয় দলীয় কর্মকাণ্ডে। এনামুল হক জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক হলে আরও কোণঠাসা হয়ে যান মোস্তাক। সম্প্রতি মোস্তাক আহমেদ খানের নেতৃত্বে বহিস্কৃত ও নিস্ক্রিয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েলের বাসায় বৈঠক করেন। এ বৈঠককে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন জেলার নেতাকর্মীরা।‌ এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আজকের ঘটনা। মোস্তাক আহমেদ খান রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মীর হেলাল উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

প্রস্তুতি সভা চলাকালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে দুই পক্ষের মারামারি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান  বলেন, কি জন্য ও কি কারণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে তা জানি না। তদন্ত করা হচ্ছে, পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।

প্রস্তুতি সভা চলাকালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে দুই পক্ষের মারামারি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির বাংলানিউজকে বলেন, মারামারি হলে আমাদের চোখে পড়ত। আমরা তো বাইরেই ছিলাম। হয়তো কথা কাটাকাটি হয়েছে। এর বেশি কিছু আমি জানি না। কেউ কোন অভিযোগ করেনি।

দলের সুত্রমতে,  দক্ষিণ জেলা বিএনপির বিভিন্ন উপজেলা কমিটি গঠন, ছাত্রদলের কমিটি  করা নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য  ব্যারিস্টার মীর হেলাল ও সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদের উপর ক্ষুব্ধ অধিকাংশ নেতাকর্মী। আজ তারই বহি:প্রকাশ ঘটেছে।