চট্টগ্রাম -১০
ইমামদের অনুদান, মহিউদ্দিন বাচ্চুর বিরুদ্ধে ইসির মামলা

বাংলাদেশ মেইল ::

ডবলমুরিং -পাহাড়তলী (চট্টগ্রাম ১০) আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ মহিউদ্দিন বাচ্চুর বিরুদ্ধে মসজিদের ইমামদের অনুদানের চেক দেবার কারণে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের আদালতে এই মামলা দায়ের করেছেন ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল।

নির্বাচন কমিশন সুত্রমতে, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনের আগে নিজ নির্বাচনী এলাকার মসজিদ, মন্দির ও প্যাগোডায় অনুদানের চেক বিতরণ করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে ।

বাদীর আইনজীবী জাহেদুল ইসলাম বলেন, চেক বিতরণে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০০৮–এর বিধি-৩ ধারার লঙ্ঘন হয়েছে। তাই আদালত বাদীর মামলাটি গ্রহণ করে আসামিকে হাজির হতে সমন জারি করেছেন। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।

এর আগে ৪ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের আইন শাখার উপসচিব মো. আবদুছ সালামের সই করা চিঠিতে নগরের খুলশী থানার নির্বাচন কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আচরণবিধিমালার ৩ ধারা অনুসারে, কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষ থেকে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনপূর্ব সময়ে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে চাঁদা বা অনুদান দিতে বা দেওয়ার অঙ্গীকার করতে পারবেন না। মহিউদ্দিন বাচ্চু এলাকার মসজিদে অনুদানের চেক বিতরণ করেছেন বলে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে অভিযোগ করেছিলেন ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলম। আফসারুল আমীনের মৃত্যুতে ফাঁকা হওয়া চট্টগ্রাম-১০ আসনে গত বছরের ৩০ আগস্ট হওয়া উপনির্বাচনে জিতে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন মহিউদ্দিন বাচ্চু। এবারের নির্বাচনেও তিনি নৌকার প্রার্থী হন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গত বছরের ২২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম-১০ আসনের সব মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের এক হাজার টাকা করে এবং মাদানী মসজিদে এক লাখ টাকা অনুদানের চেক দেন মহিউদ্দিন বাচ্চু, যা জুমার নামাজের খুতবার আগে মুসল্লিদের অবহিতও করা হয়। একইভাবে ২৪ ডিসেম্বর লালখান বাজারে তাঁর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় থেকে মসজিদগুলোর ইমাম, মুয়াজ্জিনদের ৬০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেন তিনি। এই ঘটনায় নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি অনুসন্ধান করে মোট ২১টি মসজিদ, মন্দির ও প্যাগোডা প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয় বলে জানতে পারে। পরে নির্বাচন কমিশন বরাবর সুপারিশ করা হয়। ৪ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন মামলা করার নির্দেশ দেয়।