ঈদের পোষাক তৈরি
খলিফাপট্টির দর্জিদের দিন রাত খাটুনি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

 চট্টগ্রামের খলিফা পট্টির পোশাক কারিগরদের কর্মব্যস্ততা শুরু হয়েছে। এখানকার দর্জিদের ব্যস্ততা রাত-দিন সমান। শুধু রমজান মাস বলে নয়, সারা বছরই ব্যস্ত থাকেন তারা। তবে রমজানের এক মাস আগের থেকে বেড়ে যায় কাজের চাপ। সেই সাথে তাদের কাটাতে হয় নির্ঘুম রাত।

সময় ও আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পোশাক কারিগররা। নারী-পুরুষ, ছোট-বড় সকলের পোশাক তৈরী হচ্ছে কারিগরদের দক্ষ হাত ও মেশিনের মাধ্যমে। বলা যায়, একদম দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না তারা।

বুধবার (২০ মার্চ) সকালে নগরীর আন্দরকিল্লা এলাকার খলিফাপট্টি ও ঝাউতলা বিহারি পল্লির বুটিক হাউসগুলোতে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।

খলিফাপট্টিতে সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট ও মাঝারি প্রায় চারশ’র বেশি দোকানে দুই থেকে আড়াই হাজার কর্মচারী ঈদের পোশাক তৈরির কাজে ব্যস্ত। এখানে কেউ কাজ করছেন প্রায় ২৫ বছর ধরে আর কেউ ১৫ বা ৮ বছর। অনেকে বংশপরম্পরায় এ কাজ করছেন। অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা এখনও ধরে রেখেছেন এ পেশা।

কারিগররা জানিয়েছেন, এবার ঈদে আলেয়া কাট, কাটল, গাউন, নায়েরা ও কুটি ফ্রকের মতো জামার কাজ তারা বেশি পাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি কাজ পাচ্ছেন আলেয়া কাট ও কাটলের। এর মধ্যে কাটল জামার পুরোটাতেই এমব্রয়ডারির কাজ থাকে আর আলেয়া কাটে থাকে শুধু বুকে। এক একটি আলেয়া কাট জামা সেলাই করতে কারিগররা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা পারিশ্রমিক পান। আর কাটল জামা তৈরি করতে পান ১০০ থেকে ১২০ টাকা। সাধারণ দিনে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা কাজ করলেও ঈদের জন্য ১৭ থেকে ১৮ ঘন্টা পরিশ্রম করতে হচ্ছে কারিগরদের।

২২ বছর বয়সী মো. আল আমিন খলিফা পট্টির জান্নাতুল মাওয়া গার্মেন্টসে জামা সেলাইয়ের কাজ করছেন প্রায় আট বছর ধরে। ১৪ বছর বয়স থেকেই তিনি জামা সেলাইয়ের কাজ করছেন। আল আমিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল ১৭ ঘন্টা কাজ করেছি। দুপুর ১২ টা থেকে একদম সেহেরী খাওয়ার আগ পর্যন্ত। এমনি সাধারণ সময়ে ১০ ঘন্টার মতো কাজ করলেও এখন সামনে তো ঈদ। তাই বেশি কাজ। এজন্য বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছে।’

চেনা মুখ গার্মেন্টসের স্বত্ত্বাধিকারী মো. ওসমান  বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের অর্ডার আসছে। ঢাকা থেকেও বিভিন্ন অর্ডারের কাজ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে এবার ঈদে মেয়েদের বেশকিছু জামার কাজ পেয়েছি। এরমধ্যে কাটেল জামার কাজ বেশি। দুই তিনদিনের মধ্যে আরও অর্ডার পেতে পারি। কথা বার্তা চলছে।’

খলিফাপট্টি এলাকায় পোশাক তৈরির পাশাপাশি পাইকারিতেও বিক্রি হয়। দেখা যায়, দোকানে একপাশে ক্রেতাদের পছন্দ মতো কাপড় দেখাচ্ছেন বিক্রয় কর্মীরা। কারিগরদের কেউ কাপড় কাটছেন, কেউ সেলাই করছেন, কেউ আবার ব্যস্ত কাপড় ইস্ত্রি করা নিয়ে। এরমধ্যে কাটল জামা পাইকারিতে বিক্রি করা হচ্ছে দুই হাজার টাকায় আর আলিয়া কাট বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়।

রুপনা ফ্যাশনের স্বত্ত্বাধিকারী মো. ইমতিয়াজ  বলেন, ‘এবার ফ্যাব্রিক্সের দাম অনেক বেশি। তাই আমাদের পোশাক তৈরিতেও খরচ বেশি হয়েছে। এজন্য দাম বেশি হওয়ায় আমরা এখনও তেমন বিক্রি করতে পারিনি। তবে আশা রাখি ঈদ যত সামনে আসবে বিক্রিও বাড়বে। পাইকাররাও আসবেন।’

খলিফা পট্টি বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি খন্দকার নুরুল ইসলাম  বলেন, ‘ব্যবসা এখনও জমে উঠেনি। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা আসছেন। তবে গতবছরের তুলনায় এবার জামার দাম বেশি। কারণ এবার কাপড় বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এক গজ কাপড় যেখানে গত বছর ৫০ টাকা করে কিনেছে সেটা এবছর ৮০ টাকা করে কিনতে হয়েছে। তাই বিক্রি এখনও কম হচ্ছে।’

‘১২ মাসে শুধুমাত্র এ একমাস আমরা ভালো জামা-কাপড় বিক্রি করতে পারি। তাই আমরা আশা করছি ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে ততই বিক্রি বাড়বে।’